রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে সীতা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ওয়াগ্গাছড়া চা-বাগানে ১৭ বন্য হাতির একটি দল গত এক মাস ধরে অবস্থান করছে। হাতির তাণ্ডবে বাগানের শ্রমিকদের ঘরবাড়ি, অভ্যন্তরীণ কাঁচা সড়ক এবং আম, কাঁঠাল, নারিকেলসহ বিভিন্ন গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বাগানের ২ নম্বর সেকশনের অনেক চা-শ্রমিক বসতবাড়ি ছেড়ে কর্ণফুলী নদীর উত্তর পাড়ে চলে গেছেন।
চা-বাগানের শ্রমিক রশীদ, সানাউল্লাহ্ ও আপন জানান, বন্য হাতির আক্রমণে তাঁদের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত এক মাস ধরে তাঁরা নদীর এপারে থাকছেন।
ওয়াগ্গা টি লিমিটেডের পরিচালক খোরশেদুল আলম কাদেরী বলেন, হাতির তাণ্ডবে বাগানের চা-শ্রমিকদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাগানের সড়ক, গাছপালা ও ফলমূলও নষ্ট করেছে হাতির পাল।
চা-বাগানের টিলা বাবু চাথোয়াই অং মারমা বলেন, গত এক মাস ধরে হাতির দল বাগানে অবস্থান করছে। মাঝে মাঝে দলটি সীতা পাহাড়ে চলে গেলেও হঠাৎ বাগানে নেমে এসে গাছপালা ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। চা-শ্রমিকেরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
ওয়াগ্গা চা-বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুর রশীদ কাদেরী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে হাতির দলটি ওয়াগ্গা চা-বাগানে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দলে সদস্যসংখ্যা ১৭। হাতির উপদ্রবে চা-শ্রমিকেরা নদীর এপারে চলে এসেছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, হাতির আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় খাবারের সন্ধানে হাতি প্রায়ই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। হাতির আবাসস্থল ধ্বংস না করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।