রাজশাহীর দুর্গাপুরে প্রচণ্ড দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জ্বর, ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। রোগীর চাপ বাড়ায় ৫০ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর থেকে গত বুধবার সকাল পর্যন্ত শতাধিক রোগী জ্বর, ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াজনিত রোগে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে।
প্রতিদিন জরুরি ও বহির্বিভাগের ৩০-৪০ জন জ্বর, ডায়রিয়ায় ও পেটের পীড়াজনিত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
গত চার দিনের তথ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে ৮০ জন জ্বর, ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াজনিত রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১২ থেকে ১৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও মধ্যবয়সী লোক বেশি।
বুধবার বেলা ১১টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগের রোগীর উপচে পড়া ভিড়। হাসপাতালে বহির্বিভাগের মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন।
হাসপাতালে সোমবার রাতে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে সাড়ে চার বছর বয়সী কামরুন্নাহার সুইটি। কথা হয় তার মা আমেনা বেগমের সঙ্গে। আমেনা বলেন, ‘অতিরিক্ত মাংস খাওয়া ও প্রচণ্ড গরমে ছেলেটি হাঁসফাঁস করছিল। তারপর শুরু হয় বমি। এখন পাতলা পায়খানা। রাতেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। চিকিৎসা চলছে।’
পৌর এলাকার শানপুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, ‘হঠাৎ ভীষণ জ্বর। ওষুধে কাজ হচ্ছিল না। তিন দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রিপোর্ট করে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখন সুস্থ, রিলিজ দিয়েছে বাড়ি চলে যাব।’
শালঘরিয়া গ্রামের নাসরিন আক্তার জানান, প্রচণ্ড পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর পাতলা পায়খানা শুরু হয়। শয্যায় জায়গা না হওয়া বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বহির্বিভাগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন দেবীপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঈদের পর থেকে শরীরে ভীষণ জ্বর। পাঁচ দিন হয়ে গেল। তবুও নামছে না।’
জানতে চাইলে হাসপাতালের সিনিয়র নার্স নাসিমা বেগম বলেন, গরম ও আবহাওয়াজনিত কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘ঈদের পর গরমে খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াজনিত রোগ দেখা দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘একটু সচেতন হলেই ডায়রিয়া ও পেটের পীড়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এ জন্য বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।’