দলের লোককে ঠিকাদারি কাজের অংশীদার না করায় রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবু সাঈদ চাঁদ রেলওয়ের একটি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বাঘার আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে কাজ বন্ধ করেন তিনি। তাই গতকাল শনিবার কাজ করতে পারেননি ঠিকাদার।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘কার ঘাড়ে কয়টা মাথা যে এমপি নিষেধ করে গেছেন আর কাজ করবে?’
বাঘার আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের এক নম্বর লাইনের পুরোনো কাঠের স্লিপার তুলে কংক্রিটের স্লিপার ও পাথর বসানোর কাজ পেয়েছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশন। রেললাইনের ৬৩০ মিটার এলাকায় এ কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস ও আশরাফ উদ্দিন প্রায় ৩ কোটি টাকার এ কাজটি করছেন। গত ২৭ এপ্রিল তাঁরা স্টেশনে কাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে পুরোনো স্লিপার তুলে ফেলা হয়েছে।
কাজের সাইট ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ডাবলু। কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এসব বলতে যাব না ভাই। আমি বলতে গেলে খারাপ হয়ে যাব। আপনারা আপনাদের মতো খোঁজ নেন।’
যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার আশরাফ উদ্দিন জানান, কাজ শুরুর পর থেকে বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মী পরিচয়ে কয়েকজন তাঁদের প্রতিনিধির কাছে যান। তাঁরা কাজের অংশীদার হতে চান। তা না হলে তাঁদের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কেনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাঁরা (ঠিকাদার) নিজেরাই করবেন বলে সব নির্মাণসামগ্রী কিনে ফেলেছেন। এসব দেখে তাঁরা (বিএনপি-যুবদল) ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগে এমপি আবু সাঈদ চাঁদ তাঁকে ফোন করে বলেন, সাইট ম্যানেজার ডাবলু পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ডাবলু যেন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু ডাবলু যাননি।
আশরাফ জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় যান আবু সাঈদ চাঁদ। এ জন্য রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি আড়ানী স্টেশনে যান। তিনি ডাবলুকে খুঁজে বের করে বলেন, ‘এখন থেকে কাজ বন্ধ থাকবে। তিনি বিষয়টি দেখবেন। এরপর কাজ শুরু হবে।’ এ জন্য শনিবার কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানান আশরাফ।
ঠিকাদার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পুরোনো লাইন তুলে ফেলেছি। আড়াই কোটি টাকা বিনিয়োগও করেছি। এখন তো কাউকে কাজের অংশীদার করার কিছু নাই। আমরা ঈদের আগে কাজটা শেষ করতে চাই। এখন বন্ধ রাখলে কাজ শেষ করতে দেরি হয়ে যাবে। কিন্তু কার ঘাড়ে কয়টা মাথা যে এমপি নিষেধ করে গেছেন আর কাজ করবে? আমরা কাজ বন্ধ রেখে বিষয়টি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।’
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আহসান জাবির। কথা বলতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘কাজ বন্ধ রাখলে তো সমস্যা। এতে ক্ষতি হবে। লাইন এভাবে পড়ে থাকলে শিডিউল বিপর্যয়ও হতে পারে। বিষয়টা আমার জানা ছিল না। আমি প্রকৌশল বিভাগে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।’
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজশাহী-৬ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদকে ফোন করা হলে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে হোয়াটসঅ্যাপে কল গেলেও তিনি ধরেননি। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী জালাল উদ্দিন জানান, এমপি আবু সাঈদ চাঁদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় আছেন। সভা শেষে তিনি এই প্রতিবেদককে এমপির সঙ্গে কথা বলাবেন।
পরে বিকেলে ফোন করে জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি এ বিষয়ে এমপির সঙ্গে কথা বলেছেন। এমপি তাঁকে বলেছেন, কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি কোনো নির্দেশ দেননি। জালাল আরও বলেন, তিনি নিজেও খোঁজ নিয়েছেন। শুক্রবার যেসব কাজ চলছিল সেগুলো বন্ধ আছে। তবে ঠিকাদার স্টেশনে অন্য কাজ করছেন। সে ক্ষেত্রে কাজ বন্ধ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে দুপুরে জালাল উদ্দিন বলেন, স্টেশনে রাতে এমপির সঙ্গে তিনিও ছিলেন। এমপি ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে বলেছেন, ঠিকমতো কাজ করবেন। বড় কাজ, এলাকার ছেলেদের যদি সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ হয় তাহলে নেবেন। তাদের যদি কাজে লাগানো যায়—এ রকম বলেছেন।