রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি আকিল বিন তালেবের বিরুদ্ধে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার মাস্টার্স প্রোগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল কোর্সের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানা গেছে।
আকিল বিন তালেব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইনভিজিলেটর অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার জানান, পরীক্ষার শেষ পর্যায়ের দিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়টি তাঁর নজরে আসে।
ঘটনার বর্ণনায় এই অধ্যাপক জানান, পরীক্ষার একপর্যায়ে আকিল বিন তালেবের কার্যক্রম তাঁর কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। তিনি তাঁর খাতা ও প্রশ্নপত্র পরীক্ষা করেন। প্রাথমিকভাবে তেমন কিছু না পাওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে ইনভিজিলেটরের দায়িত্ব পালন চালিয়ে যান।
পরে অন্য শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র পর্যবেক্ষণ করে তিনি লক্ষ করেন, বিভাগ প্রদত্ত প্রশ্নপত্রে প্রথম পৃষ্ঠার পুরোটা এবং দ্বিতীয় পৃষ্ঠার অর্ধেক অংশজুড়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর প্রশ্নপত্রের দুই পৃষ্ঠাজুড়েই লেখা পাওয়া যায়। ভালোভাবে লক্ষ্য করে তিনি দেখতে পান, প্রথম পৃষ্ঠায় প্রশ্ন থাকলেও দ্বিতীয় পৃষ্ঠার পুরোটা আগে থেকে উত্তর কম্পোজ করে লেখা ছিল।
মোর্শেদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তিনি প্রধান ইনভিজিলেটর অধ্যাপক আব্দুল আলিম এবং দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক আনিসুর রহমানকে অবহিত করেন। প্রাথমিকভাবে প্রশ্নপত্রের ওই অংশ কেটে দেওয়া হলেও পরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মোর্শেদুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনার এক দিন পার হলেও এ বিষয়ে বিভাগ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
জানতে চাইলে বিভাগের প্রধান ইনভিজিলেটর অধ্যাপক আব্দুল আলিম জানান, নকলসংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি। সে কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে বিষয়টি তিনি জানেন বলে জানান।
দায়িত্বরত শিক্ষক অধ্যাপক আনিসুর রহমান জানান, ঘটনার সময় তিনি পরীক্ষাকক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। নিচে নাশতা করতে যাওয়ায় ঘটনার বিস্তারিত তাঁর জানা নেই। তবে পরে তিনি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল কোর্সের পরীক্ষায় দুপুর ১২টার দিকে আকিল বিন তালেব নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েন। অধ্যাপক মোর্শেদুল ইসলাম পিটার নকলটি শনাক্ত করেন। পরীক্ষা শেষে শিক্ষকদের একটি বৈঠক হলেও সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
ওই শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এর আগেও নকলের অভিযোগ উঠেছিল। প্রায় দুবার নকল করতে গিয়ে তিনি ধরা পড়েন। সংশ্লিষ্ট কোর্সে তাঁকে একবার সাময়িকভাবে স্থগিত করে পরে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, বারবার তাঁকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইয়্যেদা আঞ্জুর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ঢাকায় একটি বৈঠকে আছেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।