শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের জরুরি উদ্যোগে নাটোরের লালপুরের আব্দুলপুর সরকারি কলেজে প্রতারণার শিকার আট শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রথম পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর আজ শনিবার তাঁরা বাগাতিপাড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ সকাল ৮টার দিকে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান শিক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেন।
পরীক্ষায় সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওন।
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা বোর্ড, কলেজ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এই আট শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভার জটিলতায় পড়েন। এ সময় ফরম পূরণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গত ১২ মার্চ কলেজের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকার প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নেন; অথচ ফর্ম পূরণ করে দেননি।
এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেন। পরে তিনি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
গতকাল দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এক টেলিকনফারেন্সে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শামীম আরা চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান এবং লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন।
টেলিকনফারেন্সে শিক্ষামন্ত্রী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন জানান, শুক্রবারই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র প্রস্তুত করে দ্রুত কলেজে পাঠানো হয়। ফলে তাঁরা অবশিষ্ট সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। প্রথম পরীক্ষার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার তদন্তে কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান জানিয়েছেন, কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
আজ দুপুরে লালপুর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখার আলম জানান, এই ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রন্থাগারের অফিস সহায়ক অমিত কুমার সরকারকে শুক্রবার বিকেলে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। তিনি বাগাতিপাড়ার খাটখৈর গ্রামের নীরেন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচির বাবা মো. ইমামুল হক (৪৫) বাদী হয়ে অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এ-সংক্রান্ত তথ্য উদ্ঘাটনে রিমান্ডের আবেদন করে শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।