দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে বলে জানান তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাবি চারুকলা অনুষদ গেটে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমরা মনে করি আমরা বিচার পেয়েছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে মোটামুটি সন্তুষ্ট। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই মুহূর্ত থেকে আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিলাম। ৬ আগস্টের পর আমরা আবারও এ বিষয়ে সবার সামনে বিস্তারিত তুলে ধরব।’
রাকসুর জিএস বলেন, ‘আমাদের আজকের এই কর্মসূচির কারণে অনেক যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছে, যার ফলে আমরা তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। এখানে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া কোনো উপাই নেই। একটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে আমরা আপনাদের কাছ থেকে চার/পাঁচ ঘণ্টা সময় নিয়েছি।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীকে যেই হেনস্তা করা হয়েছিল, আমরা সেটির শাস্তি নিশ্চিত করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের বাকি যেসব দাবি ছিল, সেগুলোও মেনে নেওয়া হয়েছে। আমি শিক্ষার্থীদের আহ্বান করব, যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তাঁরা যেন দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।’
এর আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার সময় ট্রেনের টিটিইর অনৈতিকভাবে ঘুষ নেওয়ার প্রতিবাদ করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে দায়িত্বরত টিটিই আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থীকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ফোরকান।
আজ সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে ভুক্তভোগী ফোরকানসহ কয়েকজন বিষয়টি রেলওয়ে স্টেশনে জানালেও কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেন।
এদিকে রেললাইন অবরোধের পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানান।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবি জানালে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে একটি বৈঠক করেন।
বৈঠকে অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বরখাস্তসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়।
সভা শেষে বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, গতকাল রাতে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ঘটনাটি নিয়ে আমরা শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসহ সবাইকে নিয়ে দীর্ঘ সভা করেছি। সভায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৪টি দাবি মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। তাঁদের দাবি অনুযায়ী গভীর রাতে রাজশাহীতে প্রবেশ করা ট্রেনগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা চাই, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।