রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজের আধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান তাঁরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির নেতা-কর্মীরা অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাককে পিটিয়ে আহত করেন। এ ছাড়া নারী প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতাপেটা করেন তাঁরা। শুক্রবার এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এতে দেখা যায়, শাহাদ আলী নামের এর ব্যক্তিকে চড় মারেন এবং দুজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন আলেয়া খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন গ্রাম্য মাতবর আব্দুস সামাদ ওরফে সামাদ দারোগা। উপস্থিত ছিলেন এই ঘটনার জেরে বহিষ্কৃত ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ওয়ার্ড বিনএনপির সভাপতি ইউজদার আলী ও সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গণমাধ্যমে আংশিক ও বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমাদের চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কলেজে পূর্বের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জবাবদিহি চাইতে গেলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রথমে হামলা চালান প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা।’
আব্দুস সামাদ আরও বলেন, ‘আমরা চাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়ার অপসারণ নিশ্চিত করা হোক এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এ বিষয়ে প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তাঁরা হিসাব চাইতেন, যা মূলত চাঁদা দাবির অংশ ছিল। এবার তাঁরা এসেছিলেন মাহফিলের নামে চাঁদা আদায় করতে। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় আমিও হামলার শিকার হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।’
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।