হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

‘মানুষের কাছ থেকে কষ্ট পেয়ে’ বাড়িতে গোখরা সাপ পুষছেন আশরাফুল

 রিমন রহমান, রাজশাহী

মাটির পাত্রে সাপ রেখে পুষছেন আশরাফুল। ছবি: আজকের পত্রিকা

পরিচিতজনদের বিপদ-আপদে সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম। কিন্তু নিজের বিপদের সময় কাউকে পাশে পাননি। তাই চলে যেতে চেয়েছিলেন বিদেশে। এ জন্য বিশ্বাস করে একজনকে দিয়েছিলেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এখানেও প্রতারিত হয়েছেন। এখন মানুষের প্রতি বিশ্বাস উঠে গেছে তাঁর। তাই বাড়িতে এনেছেন বিষধর গোখরা সাপ। আহত অবস্থায় পাওয়া সাপটিকে উদ্ধার করে এনে সেবা করছেন আশরাফুল। তাঁর মতে, মানুষকে বিশ্বাস করার চেয়ে অবলা প্রাণীকে বিশ্বাস করা ভালো।

আশরাফুল ইসলামের (৪৫) বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের উজালপুর গ্রামে। দুই মাস ধরে বাড়িতে একটি বিষধর গোখরা সাপ পুষছেন তিনি। সাপের বিষদাঁত ভাঙেননি; বরং করাতের আঘাতে জখম হওয়া সাপটিকে সেবাশুশ্রূষা করে সুস্থ করে তুলেছেন। দুধ আর ডিম খাইয়ে সাপটিকে লালনপালন করছেন তিনি। আশপাশের লোকজন এখন আশরাফুলকে নিয়ে নানা কথা বলেন। কিন্তু তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না বলে জানান আশরাফুল।

আশরাফুল ইসলাম অটোমেকানিকসের কাজ করেন। বাড়িতে রয়েছে তাঁর স্ত্রী পারভিন বেগম (৩৮), ছেলে শাওন ইসলাম (১৮) ও মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (৯)। তাঁরা সবাই আশরাফুলের এমন কর্মকাণ্ডে বিরক্ত। কিন্তু তারপরও বাড়িতে গোখরা সাপটিকে পুষছেন তিনি। সাপটি লম্বায় প্রায় দুই ফুট। বয়স প্রায় এক বছর। হাঁড়ি থেকে বের করলে সে ফণা তুলে বসে থাকে।

মাটির পাত্রে সাপ রেখে পুষছেন আশরাফুল। ছবি: আজকের পত্রিকা

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উজালপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খাসজমিতে আশরাফুলের দুটি টিনের ভাঙাচোরা ঘর। একপাশে কবুতর আর হাঁস-মুরগি রাখার ঘর। তার এক পাশেই টিনের চালার সঙ্গে ঝোলানো মাটির হাঁড়িতে সাপটিকে রাখেন আশরাফুল। দু-একদিন পরপর বের করে ডিম আর গরম দুধ খাওয়ান। দুই মাস ধরে সাপটি এভাবেই আশরাফুলের বাড়িতে আছে।

আশরাফুল জানালেন, মাস দুয়েক আগে গ্রামের মোড়ে একটি পুরোনো বটগাছ কাটা হয়েছিল। করাতে আঘাত পেয়ে সাপটা গুঁড়ির ভেতর আটকে ছিল। সবাই সাপটাকে মেরে ফেলতে চাইছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে তিনি সাপটাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তখন থেকে সাপটা বাড়িতেই আছে। দুধ-ডিম কিনে খাওয়াচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার আশরাফুলের বাড়িতে সাপটিকে দেখতে এসেছিলেন তাঁর প্রতিবেশী সুলতান আলী ও মহিনুল ইসলাম। সুলতান আলী বলেন, ‘এটা তো একটা ভয়ের বিষয়। সাপ তো আপন-পর চেনে না।’ মহিনুল বলেন, ‘এভাবে সাপ রাখার কারণে তাঁকে সবাই পাগল বলে।’

মাটির পাত্রে সাপ রেখে পুষছেন আশরাফুল। ছবি: আজকের পত্রিকা

আশরাফুল আজকের পত্রিকাকে জানান, বিষধর সাপ লালনপালন করায় কেউ কেউ তাঁর বাড়িঘর তুলে দিতে চান। কিন্তু সাপটাকে তিনি রাখবেন। আশরাফুল বলেন, ‘আমি বহু মানুষকে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু সব সময় ঠকেছি। কিছুদিন আগেই বিদেশ যাওয়ার জন্য দেওয়া ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মাইর গেল। আমি মানুষের পাশে থাকলেও আমার পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। অনেকে আশা দেয়, কিন্তু কিছুই না। তাহলে মানুষকে বিশ্বাস করবেন কী করে? একটা ভালো পরামর্শ, তা-ও দেবে না। মানুষের থেকে অবলা প্রাণীকে ভালোবাসা অনেক ভালো।’

আশরাফুল বলেন, ‘যাকে ভালোবাসা যায়, সে-ই আঘাত করার চেষ্টা করে এবং আঘাত করে। আঘাতের ওপরেই আছি।’ কতবার আঘাত পেয়েছেন জানতে চাইলে আশরাফুল বলেন, ‘আমার জীবনে বহু। আমার অনেক বন্ধুবান্ধব ছিল। অনেককে টাকা ধার দিয়েছি। টাকা মেরে দিয়েছে। নিজে না খেয়ে অন্যকে খাওয়ানো লোক আমি। কিন্তু যতক্ষণ আপনার পকেটে মাল আছে, ততক্ষণ আপনার মূল্য আছে। পকেটে টাকা নাই, আপনার মূল্য নাই।’

আশরাফুল বলেন, ‘টাকা না থাকলে অনেকে সাইড কেটে চলে যায়। দেখলেও না দেখার ভান করে। এখন সাপটাকেই বাড়িতে রেখেছি। কতজনে আগল-পাগল বলে। আবার বলে সাপের হাতেই আমার মৃত্যু হবে। এটা মানুষের মুখের কথা। আমি এসবে কিছু মনে করি না।’

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘সাপ কখনো পোষ মানে না। সেটা হলে তো সাপের কামড়ে সাপুড়ের মৃত্যু হতো না। আশরাফুল হয়তো সাপ ধরার কৌশলটা রপ্ত করেছেন। তারপরও এ ধরনের বিষধর সাপ বাড়িতে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া বন্য প্রাণীকে এভাবে বাড়িতে রাখাটাও আইনবিরুদ্ধ কাজ।’

যমুনায় গোসল করতে নেমে কলেজছাত্র নিখোঁজ

রাজশাহীর ২ আসন: বিএনপির বিদ্রোহীরা নির্বাচনী মাঠে, আশাবাদী জামায়াত

ভোটের আগে সীমান্তে সক্রিয় অস্ত্র কারবারিরা

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতাকে গুলি, আতঙ্কে বাজার ফাঁকা

বিপথগামীর জন্য কারাগার হবে সংশোধনাগার: আইজি প্রিজন

রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিলেন ১৫ হাজার ৫৬৭ পরীক্ষার্থী

বিএনপির রাজশাহী বিভাগের ৮ বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার

জাপাকে প্রতীক দিলে রাজশাহীতে নির্বাচন হতে দেব না: এনসিপি নেতা

১৮ দিন পর অপহৃত গরু ব্যবসায়ীর লাশ মিলল পদ্মা নদীতে

জাতীয় নির্বাচনের আগেই শাকসু দাবি রাবি শিবিরের