রাজশাহীর পবা উপজেলার কাশিয়াডাঙা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল করিম শাহের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টায় কলেজের ফটকের সামনে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে এই কর্মসূচি হয়।
মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তারা জানান, কলেজের সামনে জমি নিয়ে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই জমি নিয়ে অধ্যক্ষ আবদুল করিমের বিরুদ্ধে আনারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নতুন করে মামলা করেছেন। বক্তারা দাবি করেন, অধ্যক্ষকে হয়রানি করতে তাঁর নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কলেজের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বেগম নারগীস আরা। কলেজের প্রভাষক শামীম রেজার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজ, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম গাউস, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল আমানুল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সৈয়দ আবু বরকত প্রমুখ।
উল্লেখ্য, কলেজের সামনে কিছু জমি নিয়ে একটি পক্ষের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের মামলা চলছে। মামলা চলমান অবস্থায় সেখানে ৩ দশমিক ২০ শতক জমি বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, আগের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার আগে নতুন ক্রেতারা জমির দখল নিতে পারে না। সম্প্রতি জমিটিতে নতুন ক্রেতারা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশের মাধ্যমে বাধা দেয়। এ নিয়ে আনারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত ১০ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।
জানতে চাইলে মামলার বাদী আনারুল ইসলাম বলেন, ‘কাশিয়াডাঙা কলেজ কাশিয়াডাঙা মৌজায় অবস্থিত, যা পবা উপজেলার মধ্যে পড়ে। আমি গোয়ালপাড়া মৌজায় জমি কিনেছি, যা সিটি করপোরেশনের মধ্যে। জমি কেনার আগেই অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছিলাম। তখন তিনি নিষেধ করেননি। এখন জমি কেনার পরে তিনি আগের মামলা সামনে আনছেন। সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে আমার জমিতে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি ন্যায়বিচার চাই।’
এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আবদুল করিম শাহ বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জমিটি কলেজের সীমানার বাইরে এবং গোয়ালপাড়া মৌজার বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচারমাত্র। গত ১১ অক্টোবর পবা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বিরোধপূর্ণ জমিটি জরিপ করেন। জরিপে জমি কাশিয়াডাঙা মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৪১৫ নম্বর দাগে পড়ে। অপর পক্ষ রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক এই জমি দখলের চেষ্টা করেছিল। আমিও সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’