পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ঋণ করে মালয়েশিয়া যান সিরাজগঞ্জের হৃদয় হোসেন (২১)। এক মাস পেরোতেই লাশ হলেন তিনি। আজ শুক্রবার সকালে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হৃদয় কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের জামতৈল উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে।
নিহত হৃদয়ের পরিবার জানান, গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যান হৃদয়। ২৮ জানুয়ারি বহুতল ভবনের নির্মাণশ্রমিকের কাজ করার সময় একটি ভারী মেশিন তাঁর ওপরে পড়ে। এতে হৃদয় গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় মালয়েশিয়ার কেল এলাকার পামথিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ দিন পর তিনি আজ মারা যান।
হৃদয়ের বোন সালমা খাতুন বলেন, ‘তিন ভাইবোনের মধ্যে হৃদয় ছিল মেজো। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ঋণ করে তাঁকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু এক মাসের বেতন না পাঠাতেই হৃদয় মারা গেল।’ তিনি হৃদয়ের লাশ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য সরকারের সহযোগিতা চান। সেই সঙ্গে ঋণ পরিশোধ করার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।
জামতৈল ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, ‘হৃদয়ের লাশ দেশে আনার চেষ্টা করছি। ঋণগ্রস্ত হৃদয়ের পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদ ও ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করা হবে।’
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের জেলা সমন্বয়কারী ফাহমিদা আহসান বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় হৃদয় নামে এক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। হৃদয়ের পরিবারকে আর্থিক সহায়তায় দেওয়া হবে।’