হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের একাংশ। আজ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে পর্যাপ্ত সরকারি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং প্রতিটি হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ চালু করা। পাশাপাশি চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
এর আগে শিক্ষার্থীরা পরিবহন মার্কেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় তাঁরা উত্থাপিত তিনটি দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, দেশে গত দুই মাসে প্রায় ৪৫০ শিশু মারা গেছে। তাদের অধিকাংশের বয়স ছয় মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে। হামের প্রসঙ্গ উঠলেই ক্ষমতাসীন বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে দেয়।
ফুয়াদ রাতুল আরও বলেন, ‘সরকার দাবি করছে ৯৯ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইউনেসকোসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, এখনো উল্লেখযোগ্য শিশু টিকার বাইরে রয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত আইসিইউ নেই, হামের জন্যও আলাদা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমরা জুলাইয়ের মতো আবারও আন্দোলন গড়ে তুলব।’
নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখনো অবহেলিত। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে তৃণমূলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে দেশের কোনো মানুষকে অবহেলিত বা নিপীড়িত দেখতে চাই না।’
বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিটি শিশুমৃত্যুর জন্য শুধু টিকাকে দায়ী করছি না। তবে সরকার এখনো কার্যকর টিকা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেনি। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের মৃত্যু উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে।’
বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে শাখা ছাত্রগণমঞ্চের সভাপতি নাসিম সরকার, ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কাইসার আহমেদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।