রাজবাড়ীতে ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে প্রকাশ্যে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। জাকিয়ার দাবি, ঘটনার পর তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
জাকিয়া সুলতানার অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁর প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী হিসাবনিকাশ না বুঝিয়ে অন্যত্র চলে যান। এ ঘটনায় তিনি রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়কের কাছে অভিযোগ করেন। এর পর থেকে তাঁর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
জাকিয়া বলেন, ২৩ আগস্ট বৃষ্টি নামের ওই কর্মচারীসহ ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি রাজবাড়ীর কাপড় বাজারের তৃতীয় তলায় তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘আস্থা পোশাক শিল্পে’ গিয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেন।
জাকিয়ার ভাষ্য, এর কয়েক দিন পর গতকাল শনিবার দুপুরে কয়েক শ মানুষ তাঁর দোকানে এসে তাঁকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে তাঁকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর থানায় নিয়ে যায়। থানায় নেওয়ার সময়ও কয়েকজন যুবক তাঁকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাকিয়া সুলতানা দাবি করেন, রাজবাড়ী জেলার ২৬টি সাবসেন্টারের মাধ্যমে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় চার হাজার নারী শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন। কাপড় বাজারের প্রধান প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব শ্রমিকের অনেকেই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
জাকিয়া বলেন, ‘আমি একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছি। একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ করায় যদি এভাবে আমাকে প্রকাশ্যে হেনস্তার শিকার হতে হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে কর্মচারী বৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।