স্কুল ফাঁকি দিয়ে পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে ধরা পড়া চার শিক্ষার্থীকে জরিমানা বা অন্য কোনো দণ্ড না দিয়ে ২০০টি করে মোট ৮০০ গাছের চারা রোপণের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক এ সিদ্ধান্ত দেন।
ইউএনও জানান, দুপুরে বৃক্ষ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফেরার সময় পূর্ব পাশের পুকুরঘাটে স্কুল ইউনিফর্ম পরা চার শিক্ষার্থীকে দেখতে পান। জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে জানায়, তারা টিফিনের ছুটিতে সাঁতার কাটতে এসেছে।
পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তাদের কাউকেই ছুটি দেওয়া হয়নি। বিকেলে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে এসে স্বীকার করে, তারা শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির আবেদন দেখিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছিল।
ইউএনও মো. রিফাতুল হক বলেন, উপজেলা পরিষদের ওই পুকুরে অতীতেও ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড রয়েছে। স্কুল ফাঁকি দিয়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পুকুরে সাঁতার কাটতে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাই ভবিষ্যতে স্কুল ফাঁকি দিয়ে যেন সেখানে আর না যায়, সেজন্যই এই ``শাস্তি''।
ইউএনও আরও বলেন, ‘বিষয়টি আসলে গুরুতর কিছু নয়। তাই শাস্তিটাও রূপক। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেই তাদের গাছের চারা রোপণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
পরে অভিভাবকদের সতর্ক করে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২০০টি করে মোট ৮০০টি গাছের চারা রোপণের শর্তে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন এ কার্যক্রমের অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানা গেছে।