রাজবাড়ীর পাংশায় চোর সন্দেহে মো. জজ আলী বিশ্বাস নামে যুবদলের এক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে জজ আলীর পরিবারের দাবি, চুরির অভিযোগটি সাজানো এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আজ বুধবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়ি বাংলাট করিম মণ্ডলের মিলসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাজাইল গ্রামের মো. শুরাই বিশ্বাসের ছেলে। পেশায় তিনি কৃষিকাজে জড়িত ছিলেন এবং তাঁর তিনটি সন্তান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুবদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কসবামাজাইল ও পাট্টা ইউনিয়নের কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২২ জুন কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়ি বাংলাট এলাকায় জজ আলীর চাচা জামিন বিশ্বাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলায় কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মো. আকমল হোসেন টিক্কাকে প্রধান আসামি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, মামলার আসামিরা জামিনে বের হওয়ার পর থেকেই মামলা তুলে নিতে তাঁদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ জজ আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত জজ আলীর স্ত্রী বলেন, ‘রাতে আমার স্বামী বাড়ির পাশের নদীতে মাছ ধরতে যান। রাত সাড়ে ৩টার দিকে কসবামাজাইল ইউনিয়নের আরিফ ফোন করে তাঁকে ডেকে নেন। সকালে জানতে পারি, তাঁকে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
নিহতের বাবা শুরাই বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, ‘দুই মাস আগে টিক্কা ও হাকিমের নেতৃত্বে আমার ভাই জামিন বিশ্বাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় মামলা করার পর থেকে মামলা তুলে নিতে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এবার আমার ছেলেকেও চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ আগের মামলায় পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এই ঘটনা ঘটতো না বলেও দাবি করেন তিনি।
পাট্টা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. মাহামুল হাসান অন্তর দাবি করেন, ‘জজ আলী ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে একটি পানির মোটর চুরির অভিযোগে ফাঁকা মাঠের ভেতরের রাস্তায় ইট ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’ রাজনৈতিক বিরোধের কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন অন্তর।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে আহত করার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।