পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি সরকারি কলেজে ডিগ্রি (পাস) তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার কলেজের অফিস কক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দিয়ে অর্থ আদায়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কলেজের হিসাবরক্ষক ও হিসাব সহকারী দাবি করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘অভিযোগ জানার পরই অর্থ আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
হিসাবরক্ষক মো. রিপন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আজমল হোসেনের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীপ্রতি ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে টাকা নিতে দেখা যাচ্ছে—তিনি হিসাব সহকারী মো. সোহেল।’
হিসাব সহকারী মো. সোহেল বলেন, ‘টাকা নেওয়ার দায়িত্ব আমার নয়, আমি অফিস সহায়ক সুবর্ণা মিস্ত্রীর কাজে সহযোগিতা করেছি। তিনি আমাকে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দিয়ে রেজিস্ট্রারে নাম এন্ট্রি করার পাশাপাশি ১০০ টাকা করে নিতে বলেন। আমাদের প্রিন্সিপাল মহোদয় বিষয়টি জানেন। মূলত এটি যাতায়াত খরচ হিসেবে নেওয়া হচ্ছিল।’
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ডিগ্রি (পাস) তৃতীয় বর্ষের ৩০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছেন। প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে আসা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আজমল হোসেন বলেন, ‘কলেজে আগে থেকেই প্রবেশপত্র বিতরণের সময় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়ার একটি প্রচলন ছিল। মূলত এ টাকা অফিস কর্মচারীদের যাতায়াত খরচে ব্যয় হতো। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে টাকা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’ কতজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এত কথা মোবাইলে বলা সম্ভব নয়। সামনাসামনি আসলে কথা বলব।’
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি কলেজে প্রবেশপত্র বিতরণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।