পাবনায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং চলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ্ব মোড় এলাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখেন।
অবরুদ্ধ মিটার রিডারের নাম আইনুল হোসেন। তিনি পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসে কর্মরত।
জানা গেছে, শহর থেকে গ্রাম—জেলার সর্বত্রই ঘন ঘন লোডশেডিং চলছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ জানিয়েও সমাধান না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকেরা।
চরগড়গড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে তারা অতিষ্ঠ। দৈনন্দিন কাজকর্ম ও জীবনযাপনে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে ‘ভুতুড়ে বিলের’ অত্যাচার। সব মিলিয়ে চারিদিক দিয়েই তারা ভোগান্তির শিকার।
ইউপি সদস্য রূপবান খাতুন বলেন, মঙ্গলবার চরগড়গড়ি এলাকায় মিটারের রিডিং লিখতে যান আইনুল হোসেন। সে সময় এলাকায় লোডশেডিং চলছিল। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ লোকজন তাঁকে দেখে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে আটকে রেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফোন দেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর এলাকাবাসী তাঁকে ছেড়ে দেয়।
মিটার রিডার আইনুল হোসেন বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তবে বিষয়টি শুধু একটি গ্রামকেন্দ্রিক নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বিল লেখা বন্ধ রেখে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন।
পাবনা শহরের পাওয়ার হাউজপাড়া মহল্লার বাসিন্দা নাজমা রহমান বলেন, প্রচণ্ড গরমে বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘরে ফিরেও লোডশেডিংয়ের কারণে শান্তিতে বসা যাচ্ছে না। এক-দুই ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করায় ছোট শিশু ও বয়স্করা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের চাহিদা তো প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হয়। বুধবার দুপুরে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৯ মেগাওয়াট, পেয়েছি ৫৬ মেগাওয়াট। আমরা যে বিদ্যুৎ পাই সেটা সমহারে বণ্টন করে কাভার করার চেষ্টা করছি। তাই কখনো এক ঘণ্টা, কখনো দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী আরও বলেন, ‘এটি জাতীয় সমস্যা, সারা দেশে একই চিত্র। গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। আজকেও ঢাকায় এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি জরুরি মিটিং হয়েছে। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে লোডশেডিং কমে যাবে।’
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার আহমদ শাহ আল জাবের জানান, আজ তাদের বিদ্যুতের চাহিদা ৯১ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ৫৯ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ৩২ মেগাওয়াট। সারা দেশে একই অবস্থা থাকায় সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।