সাউথইস্ট ব্যাংকের ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব ইমরুল কায়েস সুমনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার দুপুরে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন জানান তিনি। শুনানি শেষে মামলার সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিচারক শাহিন কবির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাউথইস্ট ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখার দায়ের করা ২ কোটি ২৩ লাখ টাকার অর্থ আত্মসাৎ মামলার (জিআর ২০৩/১৯) অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আসামি ইমরুল কায়েস সুমন। জামিনের আবেদন খারিজের পর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
সাউথইস্ট ব্যাংক পাবনা শাখার জোনাল ম্যানেজার এ কে এম মতিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা নেওয়া হয়েছিল। সেই মামলায় আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।’
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের ব্যবসায়িক ক্যাশ ক্রেডিট (সিসি) সুবিধার বিপরীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের পর সপরিবারে আত্মগোপন করেন সুমন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল সাউথইস্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করে।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশের তথ্য উন্মোচিত হলে ২০২৩ সালের জুনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাংকের ৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতে সহায়তার অভিযোগে পৃথক মামলা করে। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে জামানত ছাড়াই সুমনকে ওভারড্রাফট ও ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়মের মামলায় অভিযুক্ত সুমনকে সম্প্রতি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদস্যসচিব পদে মনোনীত করা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। বিচারাধীন মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ প্রদান নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। আজ রোববার আদালত কর্তৃক তাঁর জামিন নামঞ্জুর ও কারাগারে প্রেরণের খবরে ঈশ্বরদী ও পাবনার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।