হোম > সারা দেশ > পাবনা

পাবনার শিশু শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মোস্তফা গ্রেপ্তার, শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনা সদর উপজেলার স্কুলশিক্ষার্থী (১০) হত্যাকাণ্ডে মোস্তফা প্রামাণিক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মোস্তফাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ জন্য তাঁকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কীভাবে, কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করেছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, নিহত শিশুর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ মামলা করেছিলেন। মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। শিশুটিকে ধর্ষণের বিষয়ে তদন্ত শেষে বলা যাবে।

গতকাল বুধবার মোস্তফা প্রামাণিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করার পর আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে শিশু হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবিতে আজ বেলা ১১টার দিকে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন পাবনা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বজনেরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে শিশু শিক্ষার্থীরা ‘বেঁচে থাকার অধিকার চাই’, ‘আমার অধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র মানি না’, ‘শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়ন চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে।

বক্তারা বলেন, শিশুটিকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও বিচারহীনতার জন্য এই ধরনের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বারবার ঘটে চলেছে। এখন মানুষের সহ্যক্ষমতার বাইরে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। তাই এই ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি। নিখোঁজের সাত দিন পর গতকাল সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।