চলনবিল অঞ্চলে পাট কাটা শেষ না হতেই পুরোদমে শুরু হয়েছে আমন ধান রোপণ। মাঠে মাঠে এখন কৃষকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। কাটা পাটের ফাঁকা জমিতে মই দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বীজতলা থেকে চারা তুলে মূল জমিতে রোপণের কাজ চলছে পুরোদমে। টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কৃষকেরা আমন রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৪১৯ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের আশা, হাইব্রিড ও উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের আবাদে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
গত বছর উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ হয়েছিল। এবার হাইব্রিড আবাদ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোট আবাদও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইতিমধ্যে এক-তৃতীয়াংশ জমিতে রোপা আমন রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে ধান রোপণ শেষ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নিম্নাঞ্চলের অনেক জমিতেই পানি না থাকায় সেসব জমিও চাষের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ প্রণোদনা কর্মসূচি ও আধুনিক জাতের প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করেছে।
মথুরাপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক আজির উদ্দিন জানান, বগুড়া অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনি তিন বিঘা জমিতে ব্রি ধান-১০৩-এর প্রদর্শনী প্লট করেছেন। এ ছাড়া ব্রি ধান-৮৭, বিনা ধান-২০সহ বিভিন্ন জাত মিলিয়ে ১১ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, উন্নত জাতের ধান থেকে বীজ সংরক্ষণ করে পরবর্তী মৌসুমে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা ও উপকরণও পাওয়া যায়।
মূলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ি গ্রামের কৃষক আকতার হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ করছেন। তিনি জানান, ব্রি ধান-৮৭, ৯০, ৯৫, ১০৩ এবং তেজগোল্ড, জনকরাজ, শক্তি, সুরভিসহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের আবাদ করেছেন। এসব জাতের রোগবালাই কম এবং ফলনও বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, চলতি মৌসুমে রোপা আমন রোপণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কৃষকদের মধ্যে হাইব্রিড জাতের চাষে আগ্রহ বেড়েছে। মোট বীজতলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই হাইব্রিড জাতের। তিনি বলেন, কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি লাইন পদ্ধতিতে চাষ, খেতে ডাল পুঁতে পোকা দমন (পার্চিং) এবং পানি সাশ্রয়ী অলটারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং (এডব্লিউডি) পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ বলেন, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে রোপা আমনের আবাদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।