পাবনার হিমাইতপুরে সৎসঙ্গ আশ্রম কর্তৃপক্ষকে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্মস্থানের শূন্য দশমিক ১৫ একর জমির মালিকানা দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে এলাকাবাসী। আজ বুধবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫৪৭ জনের স্বাক্ষর-সংবলিত একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামান আবেদনপত্রটি নেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রম এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন আফজাল হোসেন, মান্নান মালিথা, আবুল কালাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, পাবনার হিমাইতপুরে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রম দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে স্থানীয় জনগণের কাছে শ্রদ্ধা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে এবং এর সেবামূলক কর্মকাণ্ডে বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কিছু বহিরাগত ব্যক্তি ও একটি ভারতীয় সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হিমাইতপুরে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের পরিচালিত নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি করাসহ ঠাকুরের জন্মস্থান দখলের পায়তাঁরা করছেন।
বক্তারা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া পাবনার হিমাইতপুরের শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমকে ঠাকুরের জন্মস্থানের শূন্য দশমিক ১৫ একর জমি হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু পরে আরেকটি পক্ষ জমিটি নিয়ে মামলা করে। এ নিয়ে মামলা এখনো চলমান আছে। বক্তারা জমিটি পাবনার হিমাইতপুরে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমকে পুরোপুরি বুঝিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘স্যার অনুপস্থিত থাকায় স্যারের পক্ষে আমি আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেছি। আবেদনপত্রটি যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর, তাই স্যার আসলে স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে সেখান থেকে পাওয়া নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’