হোম > সারা দেশ > পাবনা

তিনি এখন ‘মাল্টা ভাবি’

শুভাশীষ ভট্টাচার্য্য তুষার, চাটমোহর (পাবনা)

বাগানের গাছে ফলা মাল্টা হাত দিয়ে ধরে দেখছেন শারমিন খাতুন। সম্প্রতি পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা শারমিন খাতুন। সম্বল শুধু বসতভিটা। কিন্তু পরিবারের কাজের পাশাপাশি নিজের আলাদা পরিচয় গড়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। তাই সাহস করে দুই বিঘা জমি চুক্তিতে নিয়ে গড়ে তুলেছেন মাল্টার বাগান। আর এই মাল্টা চাষে তিনি পেয়েছেন আশাতীত সাফল্য। তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। মাল্টা চাষে তাক লাগিয়ে শারমিন এখন উপজেলাজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন ‘মাল্টা ভাবি’ হিসেবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুন্তলা ঘোষ বলেন, ‘শারমিন খাতুনের মতো উদ্যোগী কৃষকদের কৃষি অফিস বিশেষ যত্ন করে থাকে। আমরা তাঁকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ফলের মেলায় শারমিন খাতুনের মাল্টা প্রদর্শনের পর অনেক কৃষক মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আশা করা যায়, উপজেলায় দিন দিন মাল্টা চাষ সম্প্রসারিত হবে।’

২০২৩ সালের শেষের দিকের কথা। পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তিতে দুই বিঘা জমিতে তিনি গড়ে তোলেন ভিয়েতনামি ও বারি-১ জাতের মাল্টার বাগান। শুরুতে দুই বছর ফলন কম হলেও গত বছর ফলে বাগান ভরে যায়। জমির টাকা ও পরিচর্যার খরচ মিটিয়ে লাভ করেন ২ লাখের বেশি টাকা। এ বছরও ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। তাই শারমিন খাতুনের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক। দুই বিঘা জমির মাল্টার বাগান থেকে এবার সব খরচ মিটিয়ে ৪ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।

প্রত্যন্ত গ্রামে হলেও শারমিন খাতুনের ফলানো মাল্টা দেখতে মানুষ ভিড় করছেন দলে দলে। কেউ জানছেন চাষপদ্ধতি, কেউ শুনছেন লাভের হিসাব। মাল্টা চাষের সাফল্য শারমিন খাতুনকে উপজেলাব্যাপী ‘মাল্টা ভাবি’ হিসেবে পরিচিত করেছে। তিনি হয়ে উঠেছেন নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয়।

শারমিনের বাগানে উৎপাদিত মাল্টা আকারে বিদেশি মাল্টার মতোই। স্বাদও ভালো। দাম বিদেশি মাল্টার চেয়ে কম হওয়ায় এর কদরও অনেক। ইতিমধ্যে শারমিন আরও এক বিঘা জমি চুক্তিতে নিয়ে হলুদ বর্ণের মাল্টা চাষ শুরু করেছেন।

শারমিন খাতুন বলেন, শুরুর দিকে মাল্টার বাগান করা নিয়ে আশপাশের অনেকে কটাক্ষ করলেও তিনি থেমে যাননি। বরং এগিয়েছেন আরও উদ্যম নিয়ে। এভাবে তিনি সফল হয়েছেন। এখন এলাকার সবাই তাঁকে মাল্টা ভাবি ডাকে।

সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শারমিন খাতুন মাল্টার বাগান করেছেন জানতে পেরে আমি নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। মাল্টার চাষ অন্য ফসলের চেয়ে ব্যতিক্রম হওয়ায় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ জানান, চাটমোহর উপজেলায় বেশ কয়েকটি মাল্টার বাগান গড়ে উঠলেও শারমিন খাতুন সফলতা

পেয়েছেন। তিনি অনন্য। মূলত ভিয়েতনামি জাতের মাল্টায় সারা বছরই ফলন মেলে। তাই লাভ বেশি হয়। রস ও মিষ্টতা অন্য জাতের তুলনায় বেশি।