পাবনার বেড়া উপজেলার প্রয়াত পাখিবন্ধু আকাশকলি দাসের গড়ে তোলা পাখির অভয়াশ্রম সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত সোমবার আদালত সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, পাবনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেন। গতকাল মঙ্গলবার লইয়ার্স সোসাইটি ফর ল সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম আসিফ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
অ্যাডভোকেট মেজবাহুল জানান, তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে আদালত পাখির অভয়াশ্রমটি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে বিচারপতি আব্দুর রহমান ও ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই পাখির অভয়াশ্রম সংরক্ষণে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভয়াশ্রম রক্ষায় অবহেলা কেন অন্যায় ও অবৈধ বলে গণ্য হবে না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের অনন্য এই পাখির অভয়াশ্রমটি রক্ষায় গত জানুয়ারিতে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পাবনার জেলা প্রশাসকসহ ১০টি সরকারি দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিল লইয়ার্স সোসাইটি ফর ল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ১২ মে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহুল হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, বেড়া উপজেলার কৈটোলা ইউনিয়নের কৈটোলা গ্রামে কাগেশ্বরী নদীর পাড়ে প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর আকাশকলি দাস নিজের পরিকল্পিত বনায়নের মাধ্যমে পাখি অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছিলেন। চিরকুমার আকাশকলি স্থানীয়ভাবে ‘পাখিবন্ধু’ বলে পরিচিত ছিলেন। পাখিদের প্রতি ছিল তাঁর অসীম ভালোবাসা। তার অভয়াশ্রমে ঝাঁক বেঁধে আসত দেশি বক, কানিবক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, ঘুঘু, দোয়েল, শালিক, ছোট সরালি, বড় সরালি, খঞ্জনা, পাতিহাঁসসহ নানা জাতের দেশি ও পরিযায়ী পাখি। বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য আকাশকলি দাস অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন-২০২৪সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট এই পরিবেশপ্রেমীর মৃত্যুর পর থেকেই অভয়াশ্রমটি দখল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস পর অসিত ঘোষ, অসীম ঘোষ এবং মোহাম্মদ আলী নামে তিন ব্যক্তি পুরো অভয়াশ্রমসহ আকাশকলি দাসের সব সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন। এই প্রভাবশালী পক্ষটি মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েট ল্যান্ড বায়োডাইভারসিটি রিহ্যাবিলিটেশন প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন কর্তৃক ঘোষিত এই অভয়াশ্রমের গাছপালা কেটে এবং পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের লিখিত নির্দেশনা এখনো পাইনি। এখানে আমাদের বক্তব্যের কোনো সুযোগ নেই। আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।’