পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। সন্দেহের বাইরে থাকতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা শিশুটিকে খোঁজা, মানববন্ধন ও এলাকাবাসীর তল্লাশি কার্যক্রমেও অংশ নেন।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোস্তফা কামাল (৫৫) ও ইয়াছিন আলী (২১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আজ তদন্তভার পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবু আশ্রাফ বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্য, মোবাইল ফোনের ডিজিটাল আলামত এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিশুটি নিখোঁজ হয়। মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলী শিশুটিকে ফুসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের শোবার ঘরে নিয়ে যান। সেখানে দুজনে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে পুলিশের দাবি। ঘটনা জানাজানির আশঙ্কায় পরে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর মরদেহ গুমের পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তরা। প্রথমে হলুদ রঙের একটি প্লাস্টিকের বস্তায় শিশুটির মরদেহ ঢুকানো হয়। পরে বস্তাটি মোস্তফার ঘরের খাটের নিচে রাখা হয়।
এক দিন পর রাতে মরদেহসহ ওই বস্তাটি সাদা রঙের আরেকটি বস্তার ভেতরে ঢোকানো হয়। এরপর দুটি ইট বস্তার সঙ্গে বেঁধে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ঝোপঝাড় ও লতাপাতার নিচে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়।
এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেন এবং বাড়ি বাড়ি তল্লাশির উদ্যোগ নেন। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিও ওই তল্লাশিতেও অংশ নিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে অভিযুক্তরা ডোবা থেকে মরদেহটি তুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বস্তাটি একটি সেপটিক ট্যাংকের কাছে নেওয়ার সময় সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। একই সময় কুকুরের ডাক শুনে ভয় পেয়ে তাঁরা বস্তাটি সেখানে ফেলে পালিয়ে যান। পরের দিন সকালে মরদেহ দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন, জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।