পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিক দোরোখিন সের্গেই (৪৮) মারা গেছেন। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রূপপুর প্রকল্প এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নিয়ে দেশে গত সাড়ে তিন মাসে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট চার রুশ নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ সকাল আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিটে সের্গেই রূপপুর প্রকল্পে তাঁর কর্মস্থলে যান। সেখানে যাওয়ার পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, কোম্পানির দোভাষী রুহুল্লাহ জাহেদী রুম্মানসহ অন্য রুশ সহকর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিতে চাইলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে নিজের কাছে থাকা ওষুধ সেবন করে টেবিলের ওপর মাথা রেখে থাকেন। এ সময় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অধিকতর নিশ্চয়তার জন্য সেনাসদস্য, পুলিশ ও কোম্পানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকও মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
দোরোখিন সের্গেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে অ্যাটমটেকএনার্গো নামের একটি প্রযুক্তি ও প্রকৌশল কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তিনি উপজেলার সাহাপুরের নতুনহাট মোড়ের গ্রিনসিটি বহুতল আবাসিকের ৪ নম্বর বিল্ডিংয়ের ১১ তলার ১১২ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
কোম্পানির দোভাষী রুহুল্লাহ জেহেদী রুম্মান বলেন, কী কারণে রুশ নাগরিক মারা গেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি জানা যেতে পারে।
ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, সের্গেই অসুস্থ বোধ করলে তাৎক্ষণিক তাঁকে প্রকল্পের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, রুশ নাগরিকের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রুহুল কুদ্দুস আজকের পত্রিকাকে জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনগুলোতে বিদেশিদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্ডিয়াক অ্যাটাককে দায়ী করা হয়েছে। অন্য কোনো কারণ উল্লেখ নেই।
প্রকল্প সূত্র জানায়, এর আগে ৩ আগস্ট রূপপুর প্রকল্পে বিদেশিদের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলা থেকে কুদরিন সার্গেই (৫৬) নামের এক রুশ নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি রূপপুর প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেস্ট রসিম কোম্পানির কর্মকর্তা ছিলেন।
তারও আগে ২৬ মে রাতে গ্রিনসিটির ২১ নম্বর ভবনের একটি কক্ষ থেকে লাতিপভ ভিল নামের আরও এক রুশ নাগরিকের মরদেহ পাওয়া যায়। এর কিছুদিন আগেই ১ মে গ্রিনসিটির একটি উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার থেকে চুরকিন ভ্লাদিমির নামের আরেক রুশ নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।