পাবনার বেড়া উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল দুধ ও দুধ তৈরির ক্ষতিকর উপকরণ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার পেচাকোলা ঘাট এলাকার উত্তম ঘোষ ও পলি ঘোষ দম্পতির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এই সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এ সময় নকল দুধ তৈরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পলি ঘোষকে (৩৫) এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মায়িশা খান। এ সময় স্থানীয় থানা-পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানা গেছে, ওই এলাকার উত্তম ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী পলি ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বাড়িতে কেমিক্যাল ও ক্ষতিকারক সামগ্রী দিয়ে ভেজাল ও নকল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালায়। পরবর্তী সময়ে উত্তম ঘোষের ঘর থেকে বড় আকৃতির ডেগে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নকল দুধ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে নকল দুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত পাম অয়েল, ব্লিচিং পাউডার, কেমিক্যাল জেল, খাবার সোডা, গরম ছানার পানি, এক ডেগ ক্রিম ও ব্লেন্ডার মেশিন জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে মূল হোতা উত্তম ঘোষকে পাওয়া না গেলেও তাঁর স্ত্রী পলি ঘোষকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পলি ঘোষ স্বীকার করেন, তিনি ও তাঁর স্বামী নিয়মিতভাবে এসব ক্ষতিকর উপকরণ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ করা আলামত ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পলি ঘোষকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরেন মায়িশা খান বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযুক্ত নারী তাঁর অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তাঁর ঘরে থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়ির বিষয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁকে কারাদণ্ড না দিয়ে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং নকল দুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।