পাবনার ঈশ্বরদীতে মাথা ও বুকে সাদা কাপড় জড়িয়ে প্রকাশ্যে শটগান হাতে জুবায়ের হোসেন বাপ্পি নামে এক যুবক রাস্তায় মহড়া দিয়েছেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আজ সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট এলাকায় ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি থানায় পুলিশ হেফাজতে আছেন। একই সঙ্গে তার অস্ত্রের লাইসেন্স আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনার পর থেকে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনতা ও বিএনপি একাংশের নেতা কর্মীরা ওই যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
জুবায়ের হোসেন বাপ্পি ঈশ্বরদী শহরের মশুরিয়া পাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের সমর্থক। তিনি নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা বলে দাবি করেছেন।
আজ বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওতে প্রথমে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বুক ও মাথায় সাদা কাপড় জড়ানো অবস্থায় ওই যুবক শটগান হাতে নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে হেঁটে রেলগেট ট্রাফিক মোড় এসে দাঁড়ান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দাশুরিয়ার বিএনপি কর্মী সুলভ মালিথা। তাঁদের পেছনে মোটরসাইকেলে বেশ কয়েকজন যুবককে দেখা যায়। শটগান হাতে নিয়ে পায়ে হেঁটে কিছু সময় রেলগেট ট্রাফিক মোড়ে দাঁড়ান বাপ্পী এবং থানার দিকে ফিরে যান।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আশাদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘ওই যুবক অস্ত্র জমা দিতে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাঁর লাইসেন্সের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছি।’
এদিকে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁকে গ্রেপ্তার ও তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে স্থানীয় বিএনপির আরেকটি পক্ষের সমর্থকেরা থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, ‘বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ওই যুবক এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও অপকর্ম করছে। এমনকি সে আমাকে এবং বিএনপি নেতা ও পাবনা-৪ আসনে এমপি প্রার্থী (স্বতন্ত্র) জাকারিয়া পিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনায় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছে। আজকে সেই পরিকল্পনায় সে শহরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা দেব।’