হোম > সারা দেশ > পাবনা

পিকনিকের কথা বলে ডেকে র‍্যাগিং, পাবিপ্রবির ছাত্রী হাসপাতালে

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) আবারও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র হলের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

র‍্যাগিংয়ের শিকার ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে পাবনা শহরের মোজাহিদ ক্লাব এলাকার এসোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল বিকেলে গণতন্ত্র হলের ১০৩৫ নম্বর কক্ষে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন ছাত্রীকে ডেকে নেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে সামিহা, ঊর্মী, নিশাত, শ্রেয়া, মিম, মারিয়া, আফিয়া, ফারজানা ও ইফতি ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে সেখানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও র‍্যাগিং করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রথমে পিকনিকের কথা বলে তাঁদের ওই কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে যাওয়ার পর বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও গালাগাল করা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও নানা প্রশ্ন করা হয়।

র‍্যাগিংয়ের একপর্যায়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে মাথায় পানি দেওয়া হয়। তবে এরপরও অন্য শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং চলতে থাকে। পরে আরেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ধরে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের পিকনিকের কথা বলে গণতন্ত্র হলের একটি কক্ষে ডাকা হয়। সেখানে যাওয়ার পর পিকনিকের কোনো কথা না বলে আমাদের ধমক দিতে শুরু করে। আমার নামে বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকে। চতুষ্পদ প্রাণীর মতো ১০ ধরনের ডাক দিতে বলা হয়। আমি ক্যাম্পাসের লেকে কেন গেছি, রিডিং রুমে কেন গেছি, ছেলেদের সঙ্গে কেন দেখা যায়—এসব প্রশ্ন করা হয়। এমনকি আমি কোনো ছেলেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি কি না, তা দেখতে আমার মোবাইল ফোনও নিয়ে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে আমার অস্বস্তি লাগতে শুরু করে। আমার ঘাড়ের রগ টেনে আসছিল এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে আমি শুয়ে পড়ি। এরপর কী হয়েছে, তা আর মনে নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেকক্ষণ র‍্যাগিং করার পর আমাদের এক বান্ধবী অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অনেকবার বললেও তাকে সঙ্গে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পরও যখন সে সুস্থ হচ্ছিল না, তখন আমরা প্রায় সবাই কান্না শুরু করি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সামিহা ও ঊর্মীর বক্তব্য জানতে তাঁদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

এদিকে হাসপাতালে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক। এ সময় প্রক্টোরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টা বডির অন্য শিক্ষকেরাও হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। র‍্যাগিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও একাধিকবার নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।