পাবনার বেড়া পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের উৎপাত মারাত্মকভাবে বেড়েছে। গতকাল রোববার সকাল থেকে আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন নারী-শিশুসহ অন্তত ২৮ জন। এর মধ্যে একটি কুকুরই একে একে তিনটি মহল্লার ১৬ জনকে কামড়েছে। এ ঘটনায় পৌরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার বনগ্রাম মহল্লার রিপন হোসেনের ছেলে রাইয়ানকে (৮) একটি কুকুর কামড়ে দেয়। এতে তাঁর পায়ের মাংস ওঠে গিয়ে মারাত্মক জখম হয়। এরপর কুকুরটি একে একে সান্যালপাড়া, চকপাড়া ও সওদাগরপাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে শিশু-নারী ও বৃদ্ধসহ ১৬ জনকে কামড়ে জখম করে।
একইসময়ে বেড়া পৌরসভার সানিলা মহল্লার শিশু শুভ (৫), দক্ষিণপাড়া মহল্লার আব্দুল কাদের, (৫৫) রাবেয়া (৪০), তধুরী (৭), আরজু (২৭), আলেয়া (৬৫) ও হামিদাসহ (৫০) অন্তত ১২ জন কয়েকটি কুকুরের কামড়ে আহত হন।
আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে।
আহত আব্দুল কাদের বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি পাগলা কুকুর ছুটে এসে পায়ে কামড় দেয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি। পাগলা কুকুরের ভয়ে রাস্তায় চলাচল কঠিন হয়ে গেছে।’
স্থানীয়রা জানান, দুই দিনে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে পথচারীদের ওপর কুকুরগুলো চড়াও হয়েছে। বর্তমানে কুকুরের ভয়ে শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে এবং অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা পাগলা কুকুর শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, কুকুরের কামড়ে আহতদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পর প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কুকুরের কামড়ের পর যত দ্রুত সম্ভব ক্ষত স্থান পরিষ্কার করে টিকার কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।