অভাব-অনটনের কারণে কখনো শুধু পানি, কখনো পান্তাভাত খেয়েই সেহরি ও ইফতার সারতে হচ্ছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বিধবা আয়েশা বেগম ও তাঁর তিন সন্তানকে। অনেক সময় পান্তাভাত পচে গেলেও তা খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন আদরের সন্তানদের।
সম্প্রতি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোমান গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকার কক্ষে কুপি জ্বালিয়ে বসবাস করছেন তাঁরা। ছোট্ট ঘরের এক পাশে নামাজ শেষে পান্তাভাত নিয়ে বসেন আয়েশা। স্যাঁতসেঁতে গন্ধযুক্ত সেই ভাতই তাঁদের ভরসা। অন্য পাশে বসে বড় ছেলে মো. সজীব লেখাপড়া করার চেষ্টা করছে। ছোট দুই সন্তান মো. সৌরভ ও মো. সবুজ নীরবে মায়ের পাশে বসে থাকে।
প্রায় দুই বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামী আমির হোসেন লেদুকে হারান আয়েশা বেগম। তিনি ট্রাক ও পিকআপে মালামাল ওঠানামার কাজ করে পরিবার চালাতেন। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে কয়েকজন শ্রমিকসহ পিকআপে গাছ তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। একটি বড় গাছের টুকরো তাঁর ওপর ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর আয়েশার পরিবারকে সহায়তা করতেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা আলী আহম্মেদ। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তিনিও মারা যান। এর পর থেকেই আয়েশা ও তাঁর সন্তানদের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা।
আয়েশা বেগম বলেন, ‘দুই বছর আগে স্বামী হারিয়েছি। তিন সন্তান নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকি। বৃষ্টিতে ভিজি, রোদে শুকাই। আগে বাবা খোঁজ নিত, সেও মারা গেছে। এখন আমাদের দেখার কেউ নেই। অনেক সময় পচা ভাত দিয়েই সাহরি-ইফতার করি। বড় ছেলেও আমার সঙ্গে রোজা রাখে।’
নিহতের ভাই মজিবুল হক বলেন, ‘আমাদের নিজের অবস্থাও ভালো না। নিয়মিত সাহায্য করতে পারি না। কেউ এগিয়ে এলে পরিবারটির উপকার হতো।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘আমির হোসেন খুব পরিশ্রমী মানুষ ছিল। মৃত্যুর সময় তার কাছে এক টাকাও ছিল না। এলাকাবাসীর সহায়তায় দাফন সম্পন্ন হয়। এখন তার স্ত্রী-সন্তানেরা খুব কষ্টে আছে।’
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত এক মাসের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীকালে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’