বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়ায় নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৩টি মাছ ধরার ট্রলার ও একটি লবণবাহী বাল্কহেড ডুবে গেছে। এসব ঘটনায় বাল্কহেডের লস্কর ছাবের আহমেদ (৬৫) মারা গেছেন। এ ছাড়া ৫৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা নদীর পৃথক স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ছাবের আহমেদ চট্টগ্রাম জেলার ছিকলভাঙা এলাকার বাসিন্দা।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কার্গোতে থাকা সুবর্ণচরের ফারুক, জাফর, দেলোয়ার ও তারেক, লক্ষ্মীপুরের রামগতির মজিদ, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর নুরুল আজম এবং খুলনার ছবির উদ্দিনকে বিকেল ৩টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের জানান, বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১ হাজার মণ লবণ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয় কার্গো বাল্কহেড এমভি আদনান। হাতিয়ার মেঘনা নদীর ডেহেঙ্গার চর এলাকায় পৌঁছানোর পর এটি বিকল হয়ে যায়। পরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে প্রচণ্ড বাতাস ও ঢেউয়ের কবলে পড়ে বাল্কহেডটি ডুবে যায়।
আব্দুল কাদের আরও জানান, এ সময় কার্গোতে থাকা ৮জন নদীতে পড়ে যান। পরে পাশের একটি মাছ ধরার ট্রলারের সহায়তায় তাঁদের জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক বাল্কহেডের লস্কর ছাবের আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, আজ বুধবার সকালে নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজমারা ইউনিয়নের নাসির মাঝি, জহির মাঝি ও জাহেদ মাঝির তিনটি মাছ ধরার ট্রলার।
জহির মাঝির ট্রলারের মালিক নিশান চৌধুরী জানান, সকালে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি হলে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি ৩টি ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারের সহায়তায় ৪৮ জন মাঝি-মাল্লাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
নিশান চৌধুরী আরও জানান, সাগর উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়া ৩টি ট্রলারের মধ্যে ২টি পুরোপুরি ডুবে গেছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলার ও বাল্কহেডডুবির ঘটনা ঘটেছে।