‘মীম গত পরশু দিন ঢাকা গেল। আরও কয়েক দিন আগে চলে যেত। কিন্তু রোদ আর গরমের কারণে তাঁকে যেতে দিইনি। মীম যাওয়ার সময় বলেছিল, এবার টাকা জমিয়ে পুরোনো ঘরটা নতুন করে তৈরি করবে।’ আহাজারি করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন মেহেদী হাসান মীমের মা মিনু বেগম (৫৬)।
আজ বুধবার বেলা ৩টার দিকে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় সোনারায় ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মেহেদী হাসানের (২৫) দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার বারিধারায় ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় গাড়িচাপায় নিহত হন বাক্প্রতিবন্ধী এই যুবক।
আজ দুপুর ১২টার দিকে একটি গাড়িতে মেহেদীর লাশ এসে পৌঁছায় গ্রামের বাড়িতে। এ সময় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। মেহেদী ওই গ্রামের দিনমজুর মো. এরশাদুল হকের ছেলে। তিনি ডোমার সরকারি কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
মেহেদীর মামাতো ভাই সাজ্জাদ চৌধুরী জয় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেহেদী হাসান মীম কথা শুনতে বা বলতেও পারতেন না। দিনমজুর বাবার বয়স হওয়ায় তিনিই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। গত সোমবার রাতে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে ঢাকায় যান। সেখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
সাজ্জাদ চৌধুরী আরও বলেন, মেহেদী হাসানের এক ভাই ও এক বোন রয়েছেন। বড় ভাই বিয়ের পর আলাদা সংসার শুরু করেন, বোনেরও বিয়ে হয়েছে। মা-বাবাকে নিয়েই মেহেদীর সংসার ছিল। প্রতি মাসে মা-বাবাকে টাকা পাঠাতেন। ভিটেবাড়ি ছাড়া তাঁদের কোনো আবাদি জমি নেই। তিনি কাগজের ফুল দিয়ে বিভিন্ন শৈল্পিক কাজ করতে জানতেন।