মাদক মামলার এক আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে তাঁর মুক্তির দাবিতে নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হন স্বজন ও স্থানীয়রা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের হট্টগোল ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ২০ জনকে আটক করে।
আজ শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা সুজন ইসলাম (৩৪) নামে এক মাদক মামলার আসামির মুক্তির দাবিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। সুজন ডিমলা উপজেলার খগা খড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব দোহলপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। গতকাল শুক্রবার রাতে মাদকবিরোধী অভিযানে সৈয়দপুর শহর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার দুপুরে সুজনকে আদালতে নেওয়ার সময় তাঁর স্বজন ও স্থানীয়রা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাঁরা পুলিশের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ। পুলিশ তাঁদের সরে যেতে বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ডিবিতে ডিমলা থানা এলাকার একজন আসামি ছিল। তাঁকে আদালতে নেওয়ার সময় কয়েকজন হট্টগোল করে পুলিশের কাজে বাধা দেন। পরে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে ২০ জনকে আটক করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম বলেন, একপর্যায়ে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ তাঁদের ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যায়।
অন্যদিকে সুজনের স্বজনদের দাবি, তাঁকে মাদক মামলায় অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর ও ঢাকার দারুস সালাম থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। নথিতে ২০১৮ ও ২০২১ সালে নীলফামারী সদর থানায় এবং ২০২১ সালে ঢাকার দারুস সালাম থানায় করা মামলার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।