ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে জেলার দুটি উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে এবং নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানির চাপ সামলাতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ৩টায় একই পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে পাউবো সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী এবং জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামে ইতিমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, মধ্যরাত থেকে নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। সকালে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্বছাতনাই গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে।
তিনি আরও জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ওই দুই গ্রামের অন্তত দেড় সহস্রাধিক পরিবার এখন সরাসরি বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে।
একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলামও নদীর পানি ঢুকে তিস্তা বেষ্টিত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টায়ও একই মাপে পানি প্রবাহিত হয়।’
তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ব্যারাজের ওপর পানির চাপ কমাতে এর সব কটি (৪৪টি) জলকপাট বর্তমানে খুলে রাখা হয়েছে। পাউবো সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকতে পারে।