প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর সুপার মার্কেট গত তিন বছরেও চালু হয়নি। বিশাল স্থাপনাটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, পৌর কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণে মার্কেট চালু হয়নি। এখন দোকান বরাদ্দের জন্য জমা দেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাঁরা।
সৈয়দপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার উদ্যোগে মূল শহর থেকে ২ কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে শহরের মিস্ত্রিপাড়া বাইপাস-সংলগ্ন এলাকায় পৌরসভার নিজস্ব জমির ওপর এই সুপার মার্কেট নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিলে নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। একতলাবিশিষ্ট এই মার্কেটে ৯০টি দোকান ছাড়াও ২টি টয়লেট ব্লক, উন্নত সড়কবাতি, অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা, মাস্টার ড্রেনেজ সিস্টেম এবং অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তোলা ছিল প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক পৌর মার্কেটের দেয়ালে ও চত্বরের অনেক জায়গায় শেওলা জমেছে। ভবনের অনেক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আতাবুল ইসলাম বলেন, ‘মার্কেটটিতে এখন মাদকসেবীদের আড্ডাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটছে। এতে পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
মো. রনি নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণেই এখনো চালু হয়নি মার্কেটটি। দোকানের জন্য জমা দেওয়া টাকা এখন ফেরত চাইতে গিয়ে নানা অজুহাতের মুখে পড়ছি। টাকা ফেরত চাইলে ১০ শতাংশ কর্তনের কথা বলা হচ্ছে।’
পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আবদুল খালেক সাবু বলেন, ‘মার্কেটটিতে দোকান বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা এখন কিছু করতে পারছেন না, আবার সহ্যও করতে পারছেন না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, মূল শহর থেকে দূরে হওয়ায়, মার্কেটটি ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
সৈয়দপুর ইউএনও ও সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ‘যেহেতু আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই মার্কেটটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, তাই এ সম্পর্কে সম্পূর্ণটা জানা নেই। মার্কেটের দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের কাছ থেকে খোঁজখবর নিয়ে মার্কেটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর সুপার মার্কেট গত তিন বছরেও চালু হয়নি। বিশাল স্থাপনাটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, পৌর কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণে মার্কেট চালু হয়নি। এখন দোকান বরাদ্দের জন্য জমা দেওয়া টাকা ফেরত চেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তাঁরা।