নাটোরের লালপুরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া (ভাঙাপাড়া) গ্রামের সাজদার প্রামাণিকের ছেলে কাউসার আলী (২০), মিজানুর রহমান বিশুর ছেলে সোহাগ আলী (২৩) ও টুটুল প্রামাণিকের ছেলে ইমন আলী (১৯)।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মোহরকয়া ভাঙাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি প্রথমে নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। পরে কৌশলে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিত। এরপর প্রবাসীর বন্ধু বা পরিচিত সেজে প্রবাসীর স্ত্রী, ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের ফোন করত। ফোনে বলা হতো—আকামার (ভিসা) মেয়াদ শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে আকামার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে।
কখনো তারা প্রবাসী সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অথবা পুলিশের হাতে আটক হয়েছে এমন খবর দিত। তাকে বাঁচাতে প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে বিভিন্ন পরিমাণে টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যাংক রসিদ জালিয়াতি অথবা নারী সেজে প্রবাসীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে গোপন ভিডিও ধারণ করত তারা। পরে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিত চক্রটি।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে নিয়মিত মামলা করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত এক মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যাক ও প্রতারণা চক্রের ২০ জনের অধিক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে লালপুর থানা-পুলিশ। তবে তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ২০১৬ সাল থেকে উপজেলায় ইমো হ্যাকিং শুরু হয়ে বর্তমানে পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।