নাটোরের বড়াইগ্রামে সদর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্য ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে ১১ মাস ধরে দুস্থ নারী কল্যাণ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির এক ভাতাভোগীর চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী সংগীতা বেগম।
অভিযুক্ত ইব্রাহিম হোসেন বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য। তিনি উপলশহর গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী সংগীতা বেগম জানান, ২০২৫ সালের জুন মাসের দিকে ভিডব্লিউবির নতুন কার্ড হবে—এমন খবর পান তিনি। এ সময় লক্ষ্মীপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক আব্দুস সামাদ ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর এনআইডি কার্ড নেন। পরে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ভাতার কার্ড হয়নি।
সংগীতা বেগম আরও জানান, সম্প্রতি খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদে এসে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে কার্ড হয়েছে। একই সঙ্গে গত ১১ মাস ধরে তাঁর কার্ডের চাল অন্য কেউ তুলে নিচ্ছিলেন। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি চলতি মাসের চাল তাঁকে দেন। সেই সঙ্গে আগামী মাস থেকে তাঁকেই চাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ইউপি সচিব পরিমল খামারু জানান, সংগীতা বেগমের অভিযোগের পর তাঁরা জানতে পারেন, গ্রাম পুলিশ সদস্য ইব্রাহিম হোসেন চাল তুলে নিচ্ছেন। পরে চেয়ারম্যান বিষয়টির সমাধান করেছেন।
অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘আমাদের বেতন কম। সংসার চালানো কঠিন হয়। তাই সারা দেশের গ্রাম পুলিশই তাঁদের স্ত্রী-সন্তান বা স্বজনের নামে কার্ড করে চাল নেন। আমার স্ত্রী না থাকায় ওই নাম ব্যবহার করেছিলাম। সংগীতা আপত্তি জানিয়েছে। এখন থেকে আর নেব না।’
বড়াইগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মমিন আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তাই এমনটি হয়েছিল। জানামাত্র সমাধান করে দিয়েছি।’