হোম > সারা দেশ > নাটোর

ইউএনও অফিসে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ভাঙচুর, সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

নাটোর প্রতিনিধি 

ইউএনও অফিসে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ভাঙচুর। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় ভাঙচুরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ফুটেজ ও ছবি মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার বিষয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতা-কর্মী ও হামলার শিকার সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইউএনও দেবাশীষ বসাক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে বড়াল ব্রিজ এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেল রানা ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন পান্না মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশের পর ইউএনও দেবাশীষ বসাকের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে কয়েকজন নেতা-কর্মী ইউএনওর কার্যালয় ও আশপাশের কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকেরা ভাঙচুরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের ওপর চড়াও হন বিক্ষোভকারীরা। হামলার শিকার সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি আশিকুর রহমান, দৈনিক সংগ্রামের বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি ফজলুর রহমান, প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম, নেক্সাস টিভির জেলা প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম শরীফ ও এশিয়ান টিভির স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল মজিদ।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভাঙচুরের ভিডিও ও ছবি মুছে দেন।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সোহেল রানা ও মোতালেব হোসেন পান্নার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে বিক্ষুব্ধ পক্ষ ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত জানানো হবে।’

বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে তিনি ইউএনওর সঙ্গে বৈঠকে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। হামলার শিকার সাংবাদিকেরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।