হোম > সারা দেশ > নাটোর

ধানুড়া বালিকা বিদ্যালয়: দুটি ভবন ভেঙে বিক্রি, জানে না প্রশাসন

• দুটি ভবন ভাঙা হয়েছে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে।

• বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 

গুরুদাসপুরের ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের গুরুদাসপুরে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একটি বিদ্যালয়ের দুটি ভবন ভেঙে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে এত দিন কেউ মুখ না খুললেও নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রধান শিক্ষককে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে নতুন ও পুরোনো ভবন দুটি ভাঙা হয়েছে। ইট-রডসহ অন্যান্য উপকরণ বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তাঁরা বলেন, প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি সরকারি দলের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

জানা যায়, ২০২৩ সালে উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া বালিকা বিদ্যালয়ে জাইকার অর্থায়নে একটি নতুন ভবন তৈরি করা হয়। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন হয়। ফলে নতুনটির সঙ্গে আরেকটি আধা পাকা ভবন ভেঙে বিক্রি করে দেন প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর। এ ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা করা হয়নি।

সরেজমিন দেখা গেছে, যেখানে জাইকার অর্থায়নে নির্মিত একতলা ভবনটির অস্তিত্ব নেই। ভবনের পিলারের খনন করা গর্ত রয়ে গেছে। নেই পুরোনো আধা পাকা ভবনটিও।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল হক বলেন, প্রকাশ্যে প্রায় দুই মাস ধরে বিদ্যালয়টির ভবন ভাঙা হয়েছে। গ্রুপিং রাজনীতির কারণে প্রতিবাদ করেননি তিনি। কাজটি ঠিক হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

তবে অভিযোগ স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে চারতলা ভিতবিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন এ ভবনটির অনুমোদন পাওয়ায় আগের একতলা ভবনসহ পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

মো. আলমগীর আরও বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা সংকটের কারণে এটি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। সময়স্বল্পতার কারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে পারেননি। তবে মাইকিং করে একজন দরদাতার কাছে প্রায় ১ লাখ টাকায় নতুন ও পুরোনো ভবন দুটি বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজল্যুশনের কথা দাবি করা হলেও তা দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (অ্যাডহক) বর্তমান সভাপতি রনি আহম্মেদ মোবাইল ফোনে বলেন, দেড়-দুই মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ভবন ভেঙে বিক্রির বিষয়টি জানা নেই তাঁর। দায়দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের বলে জানান তিনি।

সাবেক সভাপতি মোতালেব হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হবে—এ কারণে জমির মাপজোখ বিষয়ে মিটিং হয়েছিল। তবে ভবন ভাঙা এবং নীতিমালা প্রণয়ন, কত টাকায় তা বিক্রি হয়েছে, সে টাকা কোথায় কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা প্রধান শিক্ষক বলতে পারবেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া বলেন, ‘নারীশিক্ষা প্রসারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা পরিষদের সুপারিশে জাইকার অর্থায়নে ২২ লাখ টাকায় ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। সম্প্রতি জানতে পারি ওই ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই প্রধান শিক্ষক নতুন একতলা ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁর অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

বড়াইগ্রামে ৭ লাখ টাকার জাল নোটসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

লালপুরে ৫২৫ গ্রাম হেরোইনসহ ২ কারবারি গ্রেপ্তার

লালপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বাইসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

বাদ পড়া সেই সুমাইয়াসহ সংবর্ধনা পেল ১৫ শিক্ষার্থী

অন্য এলাকায় সার বিক্রি করছিলেন ডিলার, ধরিয়ে দিলেন স্থানীয়রা

নাটোর-পাবনা মহাসড়কের এক পাশ বন্ধ করে স্মরণসভায় হুইপ

আ.লীগ অনুসারীর হাতে সারের ডিলারশিপ, বাতিলের দাবি স্থানীয় বিএনপির

খেলার মাঠ ভাড়া, উন্মুক্ত করার আকুতি শিশুদের

মাঠ আছে, খেলার সুযোগ নেই—উন্মুক্ত করার দাবি কিশোর-তরুণদের

বড়াইগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় ভাঙচুর, মালামাল লুটের অভিযোগ