হোম > সারা দেশ > নাটোর

ইউএনও কার্যালয়ে হামলা ও ৬ সাংবাদিককে মারধর: দুই ওসির প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন

নাটোর প্রতিনিধি 

ইউএনও কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে নাটোরে সাংবাদিকদের মানববন্ধন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, সরকারি কর্মকর্তা ও ৬ সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে গণমাধ্যমকর্মীরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি জানান। একই সঙ্গে লালপুর ও বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এরপর তাঁরা মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাকের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় ইউএনও অফিসের গেট ও বেশ কিছু ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও এক অফিস সহকারীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে।

ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ঢাকা পোস্টের নাটোর প্রতিনিধি আশিকুর রহমান, সংগ্রামের উপজেলা প্রতিনিধি ফজলুর রহমান ফজলু, প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলামসহ ৬ সাংবাদিককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চ্যানেল ওয়ান ও স্টার নিউজ টিভির সাংবাদিকদের লাইভ সম্প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

একই সময় লালপুর উপজেলায় একই দাবিতে ইউএনও অফিস ঘেরাও করা হয়। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা ও আইসিটি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

লালপুরে ভিডিও ধারণ করতে গেলে মানবজমিনের সাংবাদিক রাসেদুল এবং এনটিভি অনলাইনের সাজিবুল ইসলাম হৃদয়কে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুই উপজেলার ইউএনও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বক্তব্য জানতে চাইলে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক ফোন রিসিভ করেননি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, দুই উপজেলায় সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।

নির্যাতিত সাংবাদিক ফজলুর রহমান বলেন, ‘বুধবার ইউএনও অফিসে বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা ও পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন পান্নার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাঁরা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলে এবং আমাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে।’

নাটোর ইউনিক প্রেসক্লাবের সভাপতি ও চ্যানেল ২৪-এর স্টাফ রিপোর্টার দেবাশীষ সরকার পাঁচু বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব ছিল সাংবাদিক এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু তাঁরা সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউএনওকে অবরুদ্ধ করা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসিম উদ্দিন নাসিম বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে। ইউএনওর কলার ধরে ঝাঁকানো হয়েছে। ঘটনার পর নির্যাতিত সাংবাদিকরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা দলীয় নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দুই থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা গড়ে তোলা হবে।’