বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত বসানো হয় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। ঘরের ভেতরে সারাক্ষণ নজর রাখার জন্য আছে সিসিটিভি মনিটর। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই—কবুতরের ঘরের আড়ালে মানুষের থাকার ব্যবস্থা। সেখানে খাট, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ ছিল নানা সুবিধা। হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহার করতেন সাতটি মুঠোফোন ও ৬৮টি সিম কার্ড। পুলিশের অভিযান টের পেলেই যাতে পালিয়ে যেতে পারে, ছিল সেই ব্যবস্থাও। কিন্তু এত আয়োজন করেও শেষ রক্ষা হয়নি কথিত ‘হ্যাকিং-সম্রাট’ ওহিদুল মোল্লা ওরফে ওহিদের।
গত সোমবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সঙ্গে আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তাঁর নাম মো. আলামিন (২৩)। বাড়ি লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামে। বাবার নাম আতাহার প্রামাণিক।
গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের নাটোরের লালপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সাদ্দাম হোসেন সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাত ৯টার দিকে তাঁদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। আলামিন রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) কনস্টেবল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওহিদুল মোল্লা (৩২) উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মৃত রব্বেল মোল্লার ছেলে। মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান ওহিদুল প্রায় পাঁচ বছর আগেও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরে কিছুদিন ইজিবাইক চালিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে চুরির অভিযোগে কয়েকবার আটক হওয়ার তথ্যও রয়েছে।
পুলিশের দাবি, সময়ের সঙ্গে হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন ওহিদুল। বিলমাড়িয়া বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীর ধারে নতুন একটি বাড়িতে তিনি হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার কার্যক্রম চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তিনি দুটি বাড়ি করেছেন বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। বাড়ি দুটির চারপাশেই রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি ব্যবস্থা।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, বিলমাড়িয়া এলাকায় ওহিদুলকে হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ হিসেবে মানতেন তাঁর সহযোগীরা। তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় একটি হ্যাকিং চক্র গড়ে ওঠার তথ্য পুলিশ পেয়েছে।