নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলশা গ্রামে মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে চার ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ২৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিদেশে না পাঠিয়ে উল্টো হয়রানিমূলক মামলা করায় এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিলশা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের সড়কে মানববন্ধন করে। কর্মসূচি থেকে তাঁরা টাকা ফেরত ও ‘হয়রানিমূলক’ অপহরণ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন বিলশা গ্রামের মামুন হোসেন (৩৬) ও গোলাপ হোসেন (৩৮)। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা নেওয়ার পরও তিন বছরে কাউকে পাঠানো হয়নি। উল্টো আদম ব্যাপারীদের করা অপহরণ মামলায় তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীদের স্বজন কাজলী বেগম, পারভীন খাতুন, হাসিনা বেগম, ফরিদা বেগম ও চান্দু প্রামাণিক অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ৩ নভেম্বর বিলশা গ্রামের রেজাউল করিম, রকি, সুমন ও লালু ফকিরকে মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তাঁদের ভাষ্য, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে রাজস্ব স্ট্যাম্পে অভিযুক্ত মামুন ও গোলাপ স্বাক্ষরও করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হন অভিযুক্তরা। টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে দুই আদম ব্যবসায়ী আটক হলেও টাকা ফেরত দেওয়ার মুচলেকায় তাঁরা ছাড়া পান। এর পরও টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় আদম ব্যবসায়ী মামুন হোসেন ও গোলাপের বিরুদ্ধে নাটোর আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে আদালতে মামলা করার পর সম্প্রতি ভুক্তভোগী চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন মামুন ও গোলাপ—এমন অভিযোগ করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, এ মামলায় সুরুজ আলী ও তাঁর শ্যালক ওসমান গনি জেলহাজতে আছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে রেজাউল করিম, রকি, সুমন ও লালু ফকির আত্মগোপনে রয়েছেন। মানববন্ধন থেকে তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, চার জন বৈদেশিক কর্মসংস্থান অফিসের মাধ্যমে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। অফিসে টাকা জমার সময় তিনি ও শাওন আহম্মেদ গোলাপ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রতারণা বা কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি।
খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁর মাধ্যমে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়। সেখানে তাঁরা টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা পেয়েছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই।