নাটোরের বারনই নদের পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাসের পরিমাণ ছয় গুণ বেড়ে যাওয়ায় মাছ মরে ভেসে উঠেছে। নদের পানি পরীক্ষার পর এ কথা জানিয়েছে এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সকাল থেকে বারনই নদের পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে ও মাছ মরে ভাসতে থাকে। বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন সিংড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন, নাটোর সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ ও বাগাতিপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হোসেন।
তদন্ত কমিটি সূত্র জানায়, কমিটির সদস্যরা গত শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বারনই নদের চারটি স্থানের পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় নদের পানিতে স্বাভাবিকের (স্বাভাবিক মাত্রা দশমিক ২৫ মিলিগ্রাম/লিটার) চেয়ে ছয় গুণ বেশি অর্থাৎ প্রতি লিটারে ১ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম অ্যামোনিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা মাছের জন্য সহনীয় নয়। এতে মাছ মারা যেতে শুরু করে।
নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী বলেন, তদন্ত কমিটির সদস্যরা নদের চারটি স্থানের পানি ও মাছের নমুনা পরীক্ষা করে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বাড়ার বিভিন্ন কারণ তাঁরা লক্ষ করেছেন। এর মধ্যে নদের উজানে মাত্রাতিরিক্ত পাট জাগ দেওয়া, নদের পানিতে মুরগির খামারের বিষ্ঠা ফেলা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলা অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে এক সপ্তাহ টানা মেঘলা আবহাওয়াও অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করেছে। একটানা রোদ হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।