নরসিংদীর রায়পুরায় দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও দোকানে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের উত্তর মির্জানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির (৫২) রায়পুরা থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাইফুল ইসলাম মুন্না, সাইফুল রহমান ওরফে আপেল (৪৬), রিয়াদ (২৫), জুহেরা বেগম (৫৫), আরিফা আক্তার মুন্নি (২২), নাছির মিয়া (২৮) ও তানভীর (৩৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে আরিফুল ইসলাম মুন্নার প্রয়াত বাবার কাছ থেকে জমি কিনে ভোগদখল করে আসছেন হুমায়ুন কবির ও তাঁর পরিবার। তবে জমিটি এখনো দলিল করে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিস হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১৭ আগস্ট বিরোধ মীমাংসার কথা বলে হুমায়ুন কবিরকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জমি নিয়ে কোনো দাবি না করার জন্য হুমকি ও মারধর করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। এ সময় গুলিবর্ষণ শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের মাঠে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা সেখানেও গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের একটি কাচের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে হামলাকারীরা হুমায়ুন কবিরের বসতবাড়ি এবং বিদ্যালয়ের পাশে থাকা একটি বিকাশের দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, দোকান থেকে নগদ ২০ লাখ টাকা এবং আনুমানিক ১২ লাখ টাকা মূল্যের ছয় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়া হয়েছে। হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে টাকা দিয়ে জমি কিনে আমরা ভোগদখল করে আসছি। জমি দলিল করে না দিয়ে আমাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। বাড়ি ও দোকানে হামলা করে টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে গেছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও নিরাপত্তা চাই।’
তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বারবার চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’