হোম > সারা দেশ > নরসিংদী

পাকা আউশ রক্ষায় বাবুই-চড়ুই সামলাতে চাষির লড়াই

হারুনুর রশিদ, রায়পুরা (নরসিংদী)

কাঁচা-পাকা ধান কাটছেন চাষি। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাঠে মাঠে পেকেছে আউশ। পাকা আউশখেতে এসে বসছে ঝাঁকে ঝাঁকে বাবুই পাখি। মুহূর্তের মধ্যে ধান খেয়ে যাচ্ছে ওরা। নরসিংদীর রায়পুরার উপজেলার মাঠে মাঠে এমন চিত্র দেখা গেছে। পাখি তাড়াতে নানান পন্থা অবলম্বন করছেন কৃষকেরা। কেউ কেউ টিন-বাসন বাজিয়ে, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, ফটকা ফাটিয়ে পাখি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। অনেকেই সকাল থেকে সন্ধ্যা ধানখেত পাহারা দিচ্ছেন।

ধান রক্ষায় জমিতে প্রাণান্তর লড়াই করছেন উপজেলার মুছাপুর গ্রামের কৃষক আবদুস রহমান। তিনি বলেন, দেড় একর জমিতে আউশের আবাদ করেছি। এ বছর রোগবালাই তুলনামূলক কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু ধান বের হওয়ার পর থেকেই চড়ুই ও বাবুই পাখির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। হাজারো পাখির দল ধান খেতে পড়ছে, খাচ্ছে আর নষ্ট করছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খেতে বসে পাখি তাড়াই। তারপরও ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না।

আউশ চাষিরা জানান, উপজেলায় এখন আউশ ধান কাটার মৌসুম চলছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে এ বছর আউশ ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন চাষিরা। কিন্তু জমিগুলোতে দিনভর ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই, বাবুইসহ নানা জাতের পাখি এসে বসছে, পাখির দল ধান কিছুটা খেয়ে যাচ্ছে, ধানগাছ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্তও করছে। বাধ্য হয়ে অনেকে কাঁচা ধান কেটে ফেলছেন। এমন পরিস্থিতিতে এবার লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

আজ শুক্রবার মুছাপুর এলাকার পূর্ব হরিপুর গ্রামের কিষানি সুহেরার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, চোখের সামনে কষ্টের ফসল নষ্ট হতে দেখে বসে থাকা যায় না। সংসারের কাজ ফেলে সারা দিন মাঠে থাকতে হয়। শুরুতে মনে হয়েছিল ভালো লাভ হবে, এখন মনে হচ্ছে খরচই উঠবে না। ভবিষ্যতে আর আউশ চাষ করব না।

কৃষক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ফসল ভালো হলেও পাখির কারণে বড় ধরনের লোকসান হবে। শ্রমিকের মজুরিও উঠবে না। তাই বাধ্য হয়ে নিজেরাই কাঁচা ধান কেটে ফেলছি।’

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মরম আলী ও তাঁর স্ত্রী জানান, ধানের শিষ বের হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে পাখি তাড়াতে হচ্ছে। টিন-বাসন বাজিয়ে, ফটকা ফাটিয়ে কাজ হচ্ছে না। একই ধরনের অভিযোগ কৃষক আব্দুর রহিম, নান্নু মিয়া, শফিকুল ইসলাম, সাইদা মিয়াসহ আরও অনেকের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে রায়পুরায় ৭৩২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে সেচের খরচ কম লেগেছে। এ ছাড়া কৃষি অফিস থেকে আউশের আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা হিসেবে ১ হাজার ১৫০ জন কৃষককে ৫ কেজি করে ধানের বীজ ও ২০ কেজি সার দেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, এখন মাঠে পাখিদের খাবার কম। তাই বাবুই ও চড়ুই পাখি ধান খেতেই বেশি হানা দিচ্ছে। এতে কিছুটা ক্ষতি হলেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নরসিংদীতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

চাঁদা না পেয়ে নির্মাণকাজে বাধা, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ৩

শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও ধারণ: চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হামলায় আহত ১০, ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধ

রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে গুলিতে কৃষক নিহত, আহত ৫

নরসিংদীতে ইউপি চেয়ারম্যান চান মিয়া খাঁ গ্রেপ্তার

মনোহরদীতে খাল পুনঃখনন শেষে বরাদ্দের ৪৭ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

নরসিংদীতে আ.লীগ নেতার মারধরে বিএনপি নেতার মৃত্যু

প্রধান শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা

নরসিংদীর রায়পুরা: একই নামে দুই বিদ্যালয় বিপাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী