হোম > সারা দেশ > নরসিংদী

‘দিদির জন্য গাড়ি দেন’—শিশু তুলির আবদারে মিলল হুইলচেয়ার

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি

নতুন জামা গায়ে দিয়ে এবং দিদির জন্য হুইলচেয়ার নিয়ে তুলি ও কৃষ্ণ। ছবি: আজকের পত্রিকা

নয় বছরের তুলি পাল কারও কাছে শুনেছিল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হুইলচেয়ার পাওয়া যায়। সেই কথা শুনে খালি গায়ে ছুটে যায় ইউএনও কার্যালয়ে। সরল মনে ইউএনওকে সে বলে, ‘আমার দিদির জন্য গাড়ি দেন।’ অসহায় শিশুর আবদারে তার প্রতিবন্ধী দাদির জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করেন ইউএনও মো. মাসুদ রানা।

আজ সোমবার দুপুরে নরসিংদীর রায়পুরা ইউএনওর কার্যালয়ে যায় তুলি। এ সময় সঙ্গে ছিল তার ফুফাতো ভাই কৃষ্ণ। মা ধর্ম পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যাওয়ায় স্নেহবঞ্চিত কৃষ্ণকেও নতুন জামাকাপড় দিয়েছেন ইউএনও।

জানা যায়, তুলির মা নেই। জেলে বাবা নিরঞ্জন তাদের নিয়ে রায়পুরা পৌরসভার হরিপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তুলির শতবর্ষী দাদির চোখে আলো নেই। চলাফেরাও করতে পারেন না। সেই দাদির অসহায়ত্বই শিশু তুলির মনে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজ ভাই কৃষ্ণকে নিয়ে ছুটে যায় ইউএনও কার্যালয়ে। সেখানে তাদের দেখে কাছে ডেকে নেন ইউএনও মাসুদ রানা। সরল মনে ইউএনওকে সে বলে, ‘আমার দিদির জন্য গাড়ি দেন।’

নতুন জামা গায়ে দিয়ে ও দাদির জন্য হুইলচেয়ার নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তুলির মুখে ফুটে ওঠে মায়াভরা হাসি। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা রিকশায় করে তুলি, কৃষ্ণ ও হুইলচেয়ারটি পৌরসভার হরিপুর এলাকায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

তুলির সেই নির্মল হাসি উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও মো. মাসুদ রানার এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

একটি হুইলচেয়ার, দুটি নতুন জামা আর একটি শিশুর নির্মল হাসি হয়তো বড় কোনো আয়োজন নয়। তবে নয় বছরের তুলির সরল চাওয়া—‘আমার দিদির জন্য গাড়ি দেন’—মানবিকতার এক অসাধারণ গল্প হয়ে থেকে যাবে।