অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে নরসিংদীর মাধবদীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস ঘেরাও ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকেরা। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টার কর্মসূচিতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়।
অবরোধের কারণে দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। কিছু সময়ের জন্য জরুরি সেবার যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
মাধবদী থানা-পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। মাধবদী এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান তাঁরা।
আন্দোলনরত শ্রমিক আমান উল্লাহ বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে কাপড় উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে আমাদের বেতনও ঠিকমতো পাচ্ছি না। এভাবে চললে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না। তাই দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।’
আমান উল্লাহ আরও বলেন, ‘প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। পরিবেশ স্বাভাবিক না হলে পুনরায় লাগাতার কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’
নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর উপমহাব্যবস্থাপক মহসিন কবির বলেন, ‘লোডশেডিং একটি জাতীয় সমস্যা। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছি না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাধবদী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে।’
নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাউল হাসান, মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় কয়েকটি কারখানার শ্রমিক একত্র হয়ে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান নেন। পরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করা হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’