নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, নরসিংদীর পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর ঠাকুরপাড়া এলাকার আবাসিক হোটেল গ্রিন প্যালেসে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সাফাদি মির্জা বিজয়সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে সিপিএসসি নরসিংদী ও র্যাব-১১ সহযোগিতা করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মামলার প্রধান আসামি সাফাদি মির্জা বিজয় (২৫), শাহ আলম ফকির (৩০), রিফাত ওরফে বাবু ফকির (২২), তুষার (২৫) ও মেহেদী (২০)। তাঁদের সবার বাড়ি পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানহাটা (ফকিরবাড়ী) গ্রামে।
ওসি শাহেদ আল-মামুন জানান, গ্রেপ্তার আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২ আগস্ট রাত পৌনে ২টার দিকে ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানহাটা (ফকিরবাড়ী) এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইব্রাহিম আল মাসুম ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার প্রধান আসামি সাফাদি মির্জা বিজয়সহ তাঁর সহযোগীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম আল মাসুম (৩৩) গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা জয়নাল মাস্টার, মামুন আহম্মেদ, আমজাদ, কাউছার, মামুন, আকাশ, রুবেল, ইমরানসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
পরে গুরুতর আহত মাসুমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ৪ আগস্ট নিহত মাসুমের শ্যালক হাসান মো. মহসিন বাদী হয়ে পলাশ থানায় মামলা করেন। মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।