নরসিংদীর রায়পুরার মুছাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চত্বরে গরু-ছাগলের হাট বসানোর অভিযোগে তালুকান্দি বাজারের ইজারাদার ফারুক মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নির্ধারিত স্থানের বাইরে হাট বসানোর কারণে কেন ইজারা বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
গত শনিবার দৈনিক আজকের পত্রিকায় ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গরুর হাট, ব্যাহত চিকিৎসাসেবা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ নেয়। পরদিন রোববার রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফারুক মিয়াকে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, রায়পুরা উপজেলার তালুকান্দি বাজার বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে ইজারাদার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংরক্ষিত চত্বর এলাকায় সাপ্তাহিক গরুর হাট বসিয়ে আসছেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চত্বরে হাট বসানোর কারণে রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং রোগীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা নির্দেশনা ছাড়া সেখানে গরুর হাট বসানো দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠে হাট বসানোর বিষয়টি ছবিসহ দৈনিক আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা নিরীক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল না করলে ইজারা বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার মুছাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির পুরো মাঠজুড়ে গরুর হাট বসেছে। হাসপাতালের সামনের অংশের জানালার গ্রিলেও গরু বাঁধা ছিল। চারপাশে ছড়িয়ে ছিল পশুর মল-মূত্র। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুরো পরিবেশ ছিল নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর।
রায়পুরা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিনুকা আক্তার জানিয়েছিলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠে সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার গরু-ছাগলের হাট বসায় সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। কেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে হাটটি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেছিলেন, হাসপাতালের ভেতরে কিংবা মাঠে হাট বসানোর জন্য ইজারাদারকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সরকারি নির্ধারিত জায়গার বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।