নরসিংদীর রায়পুরার চরাঞ্চলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একনলা বন্দুক, শটগানের কার্তুজ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, বল্লম, ঢাল, ককটেলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো সওদাগরকান্দি গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে মনির হোসেন (৩৫), মৃত তালেব আলীর ছেলে আলকাছ (৬০) ও ফারুক মিয়ার ছেলে সাইম ইসলাম (১৪)।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় রায়পুরা থানা চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মারুফ।
পুলিশ সুপার বলেন, আজ সকাল ৬টায় উপজেলার চরাঞ্চলের চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি গ্রামের লঞ্চঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে অস্ত্রধারী কয়েকজন অবস্থান করছে জানতে পেরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, শটগানের ৯ রাউন্ড লাল রঙের কার্তুজ, একটি হেলমেট, চারটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি স্টিলের ঢাল, আটটি দেশীয় তৈরি বল্লম, ১৩৬টি ককটেল, এক বালতি পাথর ও একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মারুফ আর জানান, সওদাগরকান্দি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদ গ্রুপ ও মোমেন চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি প্রতিপক্ষের গুলিতে মোমেন গ্রুপের একজন নিহত হন। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার কলিমুল্লাহ, রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুর, রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমানসহ র্যাব-১১-এর কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।