নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নিখোঁজের এক মাসের বেশি সময় পর সেপটিক ট্যাংক থেকে সুমি ওরফে আলপনা (৩৫) নামের এক গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার শুক্তগ্রামের বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী আল-আমীন মন্ডল ওরফে ইরানুরকে (৪১) আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহত নারীর স্বজনের বরাতে জানা গেছে, শুক্তগ্রাম পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা ইরানুরের স্ত্রী আলপনা গত ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন ২০ ডিসেম্বর নিখোঁজ গৃহবধূর ভাই মো. সাকিব মোল্যা কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। আলপনার নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর স্বামী ইরানুরের সংশ্লিতার প্রমাণ পেয়ে গতকাল বিকেলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ইরানুর স্বীকার করেন, তিনি তাঁর স্ত্রী আলপনাকে হত্যার পর লাশ বাড়ির পাশে বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রেখেছেন। পরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে রাতে পুলিশ আলপনার গলিত লাশ উদ্ধার করে। স্ত্রীকে সন্দেহের চোখে দেখা এবং যৌতুকের দাবিতে ইরানুরের পরিবারে কলহ লেগে থাকত বলে স্বজনেরা জানান।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, গৃহবধূ আলপনা নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে আলপনার স্বামী পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করেছেন। তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাড়ির পাশে একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।